২০/১৯. অধ্যায়ঃ

গনীমাতের মালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিশেষ অংশ (সাফী)

ফাদাক সম্পদ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নীতিতে ফিরিয়ে দেওয়া

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৯৭২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ جَمَعَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بَنِي مَرْوَانَ حِينَ اسْتُخْلِفَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ لَهُ فَدَكُ فَكَانَ يُنْفِقُ مِنْهَا وَيَعُودُ مِنْهَا عَلَى صَغِيرِ بَنِي هَاشِمٍ وَيُزَوِّجُ مِنْهَا أَيِّمَهُمْ وَإِنَّ فَاطِمَةَ سَأَلَتْهُ أَنْ يَجْعَلَهَا لَهَا فَأَبَى فَكَانَتْ كَذَلِكَ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ فَلَمَّا أَنْ وَلِيَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه عَمِلَ فِيهَا بِمَا عَمِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي حَيَاتِهِ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ فَلَمَّا أَنْ وَلِيَ عُمَرُ عَمِلَ فِيهَا بِمِثْلِ مَا عَمِلاَ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ ثُمَّ أَقْطَعَهَا مَرْوَانُ ثُمَّ صَارَتْ لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ - يَعْنِي عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ - فَرَأَيْتُ أَمْرًا مَنَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَمُ لَيْسَ لِي بِحَقٍّ وَأَنَا أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ رَدَدْتُهَا عَلَى مَا كَانَتْ يَعْنِي عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلِيَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْخِلاَفَةَ وَغَلَّتُهُ أَرْبَعُونَ أَلْفَ دِينَارٍ وَتُوُفِّيَ وَغَلَّتُهُ أَرْبَعُمِائَةِ دِينَارٍ وَلَوْ بَقِيَ لَكَانَ أَقَلَّ ‏.‏

আল-মুগীরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

যখন উমর ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) খলীফা নিযুক্ত হলে তিনি মারওয়ানের পুত্রদেরকে ডেকে একত্রে করে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফাদাকের সম্পদের অধিকারী ছিলেন। এর থেকে তিনি তাঁর পরিবারের ভরণপোষণ করতেন, গরিবদের সাহায্য করতেন, হাশিম গোত্রের নাবালক শিশুদের দান করতেন এবং তাদের বিধবাদের বিবাহে খরচ করতেন। তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) তাঁর নিকট এ সম্পদ চাইলে তিনি তা দিতে অসম্মতি জানান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তা এভাবেই রয়ে যায়।পরে আবু বকর (রাঃ) খলীফা হলে তিনি তাঁর জীবদ্দশায় এ সম্পদের ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর নীতি অনুসরণ করলেন। উমর (রাঃ) খলীফা হওয়ার পর মৃত্যুর পর্যন্ত উভয় পূর্বসূরীর নীতি অনুসরণ করলেন। অতঃপর মারওয়ান এ সম্পদ জায়গীর হিসাবে দখল করেন। এখন উমর ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ)-এর মালিক।উমর ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) বললেন, আমি একটা বিষয় লক্ষ্য করছি, নবী (ﷺ) যে সম্পদ ফাতিমা (রাঃ)-কে দেননি তা আমার জন্য কীভাবে বৈধ হবে! এতে আমার কোনো অধিকার নেই। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি অবশ্যই এ সম্পদ ঐ অবস্থায় নেব যেরূপ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে ছিল।আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, উমর ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) যখন খলীফা নিযুক্ত হন তখন ঐ সম্পদের মূল্য ছিল চল্লিশ হাজার দিনার এবং তাঁর মৃত্যুর সময় এর মূল্য দাঁড়ায় চার হাজার দিনার। তিনি জীবিত থাকলে এর মূল্য আরও কমতো।

দুর্বলঃ মিশকাত (৪০৬৩)

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৯৭২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। তিনি খলীফা হওয়ার পর মারওয়ানের পুত্রদের ডেকে বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ফাদাকের সম্পদ থেকে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন, গরিবদের সাহায্য করতেন, হাশিম গোত্রের শিশুদের দান করতেন এবং তাদের বিধবাদের বিয়ের খরচ দিতেন। ফাতিমা (রাঃ) এ সম্পদ চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তা দেননি। পরে আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) একই নীতি অনুসরণ করেন। উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) বলেন, যা নবী (صلى الله عليه وسلم) ফাতিমা (রাঃ)-কে দেননি, তা তাঁর জন্য বৈধ হতে পারে না। তাই তিনি ফাদাককে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • যে সম্পদ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নীতিতে ছিল, তা ব্যক্তিগত মালিকানা বানানো উচিত নয়।
  • উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) পূর্বের ন্যায়ভিত্তিক অবস্থায় ফিরতে চেয়েছেন।
  • ফাদাকের আয় পরিবার, গরিব ও হাশিম গোত্রের প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হতো।
  • ক্ষমতা পেলেও অনধিকার সম্পদ ত্যাগ করা তাকওয়ার পরিচয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন