১৯/১৬. অধ্যায়ঃ
আত্মীয়তার মীরাস মৌখিক স্বীকৃতির মীরাসকে রহিত করে
হিজরত, বন্ধুত্ব ও মীরাসের বিধান
সুনানে আবূ দাউদ : ২৯২৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৯২৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَالَّذِينَ، آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَالَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يُهَاجِرُوا فَكَانَ الأَعْرَابِيُّ لاَ يَرِثُ الْمُهَاجِرَ وَلاَ يَرِثُهُ الْمُهَاجِرُ فَنَسَخَتْهَا فَقَالَ { وَأُولُو الأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ }
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(আল্লাহর বাণী): “যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য করেছে- তারা পরস্পরের বন্ধু। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি, তাদের সাথে তোমাদের বন্ধুত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতার সম্পর্ক নেই- যতক্ষণ তারা হিজরত না করে” (সূরা আল-আনফাল : ৭২)। বেদুইনরা মুহাজিরদের ওয়ারিস হতো না এবং মুহাজিরগণও তাদের ওয়ারিস হতেন না। উপরের আয়াত রহিত হয় এ আয়াত দ্বারা : “আল্লাহর কিতাবে রক্তের আত্মীয়গণ পরস্পরের মাঝে অধিক হকদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু অবহিত” (সূরা আল-আনফাল : ৭৫)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৯২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা আল-আনফালের আয়াতের আলোকে মীরাসের একটি ধাপ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শুরুতে যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জান-মাল দিয়ে চেষ্টা করেছে—তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি, তাদের সাথে সেই বিশেষ সম্পর্ক হিজরত না করা পর্যন্ত ছিল না। বর্ণনায় এসেছে, বেদুইনরা মুহাজিরদের ওয়ারিস হতো না এবং মুহাজিররাও তাদের ওয়ারিস হতেন না। পরে “রক্তের আত্মীয়গণ অধিক হকদার” আয়াতের মাধ্যমে এ বিধান রহিত হয়। তাই মীরাসের ক্ষেত্রে ইসলামের শেষ নির্দেশ হলো আত্মীয়তার অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মীরাসের বিধানে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের অধিকার অগ্রগণ্য।
- হিজরতের কারণে তৈরি বিশেষ সম্পর্ক পরে মীরাসের ক্ষেত্রে রহিত হয়েছে।
- ইসলামী বিধান ধাপে ধাপে স্পষ্ট হয়েছে।
- আয়াতের ব্যাখ্যা বুঝতে সাহাবিদের বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ।
