১৯/১৬. অধ্যায়ঃ
আত্মীয়তার মীরাস মৌখিক স্বীকৃতির মীরাসকে রহিত করে
আবদুর রহমানের মীরাসের অংশ
সুনানে আবূ দাউদ : ২৯২৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৯২৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْمَعْنَى، - قَالَ أَحْمَدُ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، قَالَ كُنْتُ أَقْرَأُ عَلَى أُمِّ سَعْدٍ بِنْتِ الرَّبِيعِ وَكَانَتْ يَتِيمَةً فِي حِجْرِ أَبِي بَكْرٍ فَقَرَأْتُ { وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ } فَقَالَتْ لاَ تَقْرَأْ { وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ } وَلَكِنْ { وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ } إِنَّمَا نَزَلَتْ فِي أَبِي بَكْرٍ وَابْنِهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حِينَ أَبَى الإِسْلاَمَ فَحَلَفَ أَبُو بَكْرٍ أَلاَّ يُوَرِّثَهُ فَلَمَّا أَسْلَمَ أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَنْ يُؤْتِيَهُ نَصِيبَهُ . زَادَ عَبْدُ الْعَزِيزِ فَمَا أَسْلَمَ حَتَّى حُمِلَ عَلَى الإِسْلاَمِ بِالسَّيْفِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ مَنْ قَالَ { عَقَدَتْ } جَعَلَهُ حِلْفًا وَمَنْ قَالَ { عَاقَدَتْ } جَعَلَهُ حَالِفًا وَالصَّوَابُ حَدِيثُ طَلْحَةَ { عَاقَدَتْ } .
দাঊদ ইবনুল হুসাইন (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রবী' কন্যা এবং সাঈদ (রাঃ)-এর মায়ের নিকট কুরআন পড়তাম। সাঈদ (রাঃ)-এর মা ছিলেন ইয়াতিম। তিনি আবু বকর (রাঃ)-এর তত্ত্বাবধানে লালিত হন।যখন আমি এ আয়াত পড়ি : “যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করো”। তিনি বললেন, “যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি রয়েছে...” এ আয়াত পাঠ করো না। কেননা এ আয়াত আবু বকর (রাঃ) ও তার ছেলে আবদুর রহমানের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে।সে ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় আবু বকর (রাঃ) শপথ করে বলেন, সে তার উত্তরাধিকারী হবে না। অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করলে নবী (ﷺ) আবদুর রহমানকে মীরাসের অংশ দেয়ার জন্য আবু বকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী আবদুল আযীয বর্ণনা করেন, তরবারি তাকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার পূর্বে সে ইসলাম গ্রহণ করেনি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৯২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা এসেছে, যেখানে আবু বকর (রাঃ) ও তাঁর ছেলে আবদুর রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুর রহমান প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে আবু বকর (রাঃ) শপথ করেন যে, সে তার উত্তরাধিকারী হবে না। পরে সে ইসলাম গ্রহণ করলে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মাধ্যমে তাকে মীরাসের অংশ দেওয়ার নির্দেশ আসে। এই বর্ণনায় কুরআনের পাঠের একটি পার্থক্য নিয়েও আলোচনা এসেছে—“عقدت” ও “عاقدت” শব্দের অর্থগত দিক আলাদা হতে পারে। তবে মূল শিক্ষা হলো, মীরাসের অধিকার ব্যক্তিগত রাগ, শপথ বা পূর্বের অবস্থার কারণে অন্যায়ভাবে বন্ধ করা যায় না। মীরাসের বিধান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী চলবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলাম গ্রহণের পর প্রাপ্য হক অস্বীকার করা ঠিক নয়।
- ব্যক্তিগত শপথ মীরাসের আল্লাহ-নির্ধারিত বিধান বদলে দিতে পারে না।
- কুরআনের শব্দ পাঠ ও অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
- মীরাসের ক্ষেত্রে ন্যায় ও নির্দেশিত হক রক্ষা করতে হয়।
