১৮/৫. অধ্যায়ঃ
পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়ের জন্য ওসিয়াত বাতিল
ওসিয়ত থেকে মীরাসের বিধানে পরিবর্তন
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮৬৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮৬৯
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، { إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ } فَكَانَتِ الْوَصِيَّةُ كَذَلِكَ حَتَّى نَسَخَتْهَا آيَةُ الْمِيرَاثِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(আল্লাহর বাণী): “তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে তার পরিত্যক্ত সম্পদ পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়ের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ওসিয়ত করা তোমাদের উপর ফরজ” (সূরা আল-বাকারা: ১৮০)। ওসিয়তের নিয়ম এভাবেই ছিল। পরে উত্তরাধিকার সম্পর্কিত বিধান অবতীর্ণ হলে এ আয়াত মানসূখ হয়ে যায়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ওসিয়ত ও মীরাসের বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে, আগে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়ের জন্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ওসিয়ত করার বিধান ছিল। এটি সূরা আল-বাকারার আয়াতের আলোকে বোঝানো হয়েছে। পরে উত্তরাধিকার বা মীরাস সম্পর্কিত আয়াত নাজিল হলে আগের সেই বিধান মানসূখ হয়ে যায়। অর্থাৎ উত্তরাধিকারীদের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর বিধানে স্থির হওয়ার পর তাদের জন্য আলাদা ওসিয়তের আগের নিয়ম আর আগের মতো থাকেনি। এই হাদিস ওসিয়ত, মীরাস এবং ওয়ারিসের নির্দিষ্ট হক বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে দেখা যায়, সম্পদ বণ্টনের বিষয়টি ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি; বরং আল্লাহর নির্ধারিত বিধানকে মানতে বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মীরাসের বিধান আসার আগে ওসিয়তের একটি আলাদা নিয়ম ছিল।
- উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আয়াত আগের বিধানকে বদলে দেয়।
- সম্পদ বণ্টনে আল্লাহর নির্ধারিত হক মানা জরুরি।
- ওসিয়ত ও মীরাসের বিধান আলাদা করে বুঝতে হয়।
