১৬/৪. অধ্যায়ঃ
কুরবানীর জন্য কোন ধরনের পশু উত্তম
কোরবানির দোয়া ও যবেহের সুন্দর আদব
সুনানে আবূ দাউদ : ২৭৯২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৭৯২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ، حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرٍ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِكَبْشٍ أَقْرَنَ يَطَأُ فِي سَوَادٍ وَيَنْظُرُ فِي سَوَادٍ وَيَبْرُكُ فِي سَوَادٍ فَأُتِيَ بِهِ فَضَحَّى بِهِ فَقَالَ " يَا عَائِشَةُ هَلُمِّي الْمُدْيَةَ " . ثُمَّ قَالَ " اشْحَذِيهَا بِحَجَرٍ " . فَفَعَلَتْ فَأَخَذَهَا وَأَخَذَ الْكَبْشَ فَأَضْجَعَهُ وَذَبَحَهُ وَقَالَ " بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ " . ثُمَّ ضَحَّى بِهِ صلى الله عليه وسلم .
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন দুম্বা কুরবানী করতে নির্দেশ করেন, যার শিং নিখুঁত, হাঁটা কালো, দেখতে কালো এবং শোয়াও কালো (অর্থাৎ পা, চোখ, পেট সবই কালো রঙের)। তিনি বললেনঃ হে আয়িশা (রাঃ)! ছুরি দাও। এরপর বললেনঃ এটা পাথরে ঘষে ধারালো করো। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। তিনি ছুরি নিলেন, দুম্বাকে ধরে কাত করে শোয়ান এবং যাবাহ করার সময় বললেনঃ “বিসমিল্লাহ; হে আল্লাহ! আপনি এ কুরবানী মুহাম্মাদ (ﷺ), মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পরিবার ও তাঁর উম্মতের পক্ষ হতে কবুল করুন।” অতঃপর তিনি দুম্বাটি কুরবানী করলেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৭৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কোরবানির পশু নির্বাচন, যবেহের প্রস্তুতি এবং দোয়ার সুন্দর বর্ণনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন শিংযুক্ত দুম্বা আনতে বলেন, যার পা, চোখ ও পেট কালো রঙের ছিল। তিনি আয়িশা (রাঃ)-কে ছুরি আনতে বলেন এবং পাথরে ঘষে ধারালো করতে বলেন। তারপর তিনি দুম্বাকে কাত করে শোয়ান এবং যবেহের সময় বলেন—বিসমিল্লাহ; হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم), মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-এর পরিবার এবং তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করুন। এখানে “কোরবানির দোয়া”, “বিসমিল্লাহ বলে যবেহ”, “ছুরি ধার করা” এবং “কোরবানির পশুর বৈশিষ্ট্য” বিষয়গুলো সরাসরি দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোরবানির আগে যবেহের সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হয়েছে।
- ছুরি ধারালো করার কথা এসেছে, যা কাজটি সুন্দরভাবে করার শিক্ষা দেয়।
- যবেহের সময় বিসমিল্লাহ ও কবুলের দোয়া করা হয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের পরিবার ও উম্মতের পক্ষ থেকেও দোয়া করেছেন।
