১৫/১৩১. অধ্যায়ঃ
মালের বিনিময়ে বন্দীদের মুক্তি দেয়া
হাওয়াযিন বন্দীদের ফেরত: সত্য কথা ও স্বেচ্ছা সম্মতি
সুনানে আবূ দাউদ : ২৬৯৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৬৯৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا عَمِّي، - يَعْنِي سَعِيدَ بْنَ الْحَكَمِ - قَالَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ وَذَكَرَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ مَرْوَانَ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ حِينَ جَاءَهُ وَفْدُ هَوَازِنَ مُسْلِمِينَ فَسَأَلُوهُ أَنْ يَرُدَّ إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَعِي مَنْ تَرَوْنَ وَأَحَبُّ الْحَدِيثِ إِلَىَّ أَصْدَقُهُ فَاخْتَارُوا إِمَّا السَّبْىَ وَإِمَّا الْمَالَ " . فَقَالُوا نَخْتَارُ سَبْيَنَا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ إِخْوَانَكُمْ هَؤُلاَءِ جَاءُوا تَائِبِينَ وَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ أَنْ أَرُدَّ إِلَيْهِمْ سَبْيَهُمْ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يُطَيِّبَ ذَلِكَ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَكُونَ عَلَى حَظِّهِ حَتَّى نُعْطِيَهُ إِيَّاهُ مِنْ أَوَّلِ مَا يُفِيءُ اللَّهُ عَلَيْنَا فَلْيَفْعَلْ " . فَقَالَ النَّاسُ قَدْ طَيَّبْنَا ذَلِكَ لَهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّا لاَ نَدْرِي مَنْ أَذِنَ مِنْكُمْ مِمَّنْ لَمْ يَأْذَنْ فَارْجِعُوا حَتَّى يَرْفَعَ إِلَيْنَا عُرَفَاؤُكُمْ أَمْرَكُمْ " . فَرَجَعَ النَّاسُ فَكَلَّمَهُمْ عُرَفَاؤُهُمْ فَأَخْبَرُوهُمْ أَنَّهُمْ قَدْ طَيَّبُوا وَأَذِنُوا .
মারওয়ান ও আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হাওয়াযিন গোত্রের লোক ইসলাম গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তারা তাদের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে আবেদন জানালো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেনঃ “আমার সাথে এদেরকে দেখছো? আমার নিকট সত্য কথা অধিক পছন্দনীয়। সুতরাং তোমরা বিবেচনা করো তোমরা কি তোমাদের বন্দীদের ফেরত নিবে, নাকি ধনসম্পদ ফেরত নিবে।” তারা বললো, “আমরা আমাদের বন্দীদের ছাড়িয়ে নিতে চাই।”রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে দাঁড়িয়ে আল্লাহর গুণগান করার পর বললেনঃ “তোমাদের এই ভাইয়েরা তওবা করে তোমাদের নিকট এসেছে। আমি তাদের বন্দীদের ফেরত দেওয়া সঠিক মনে করি। তোমাদের কেউ খুশি মনে বন্দীদের ছাড়তে চাইলে সে যেন বন্দীকে ছেড়ে দেয়। আর যে ব্যক্তি মুক্তিপণ চায়, তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে গনীমতের পাওয়ার সাথে সাথে তা আদায় করে দিবো, সেও যেন বন্দীদের ছেড়ে দেয়।”লোকেরা বললো, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা খুশি মনে মুক্তিপণ ব্যতীতই বন্দীদের মুক্তি দিচ্ছি।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তোমাদের মধ্যে কে মুক্তিপণ ছাড়া আর কে মুক্তিপণ নিয়ে বন্দীদের মুক্তি দিতে ইচ্ছুক তা আমি আলাদা জানতে পারিনি। কাজেই তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের নেতৃবৃন্দের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করো।” নেতৃবৃন্দরা এসে তাঁকে জানালেন, “প্রত্যেকেই বন্দীদের স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে সম্মতি দিয়েছে।”
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাওয়াযিন গোত্রের বন্দীদের ফেরত দেওয়ার ঘটনা এসেছে। তারা ইসলাম গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে সম্পদ ফেরত চাইলে তিনি বলেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা হলো সত্য কথা। তাই তারা যেন বেছে নেয়—বন্দী নেবে নাকি সম্পদ নেবে। তারা বন্দীদের বেছে নেয়। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর প্রশংসা করে বলেন, তারা তওবা করে এসেছে এবং তিনি বন্দীদের ফেরত দেওয়া ভালো মনে করেন। কিন্তু তিনি কাউকে জোর করেননি। যে খুশি মনে ছাড়তে চায়, সে ছাড়বে; আর যে বিনিময় চাইবে, তাকে পরে দেওয়া হবে। পরে নেতাদের মাধ্যমে সবার সম্মতি নিশ্চিত করা হয়। এই হাদিসে সত্যবাদিতা, পরামর্শ, স্বেচ্ছা সম্মতি এবং বন্দীমুক্তির শিক্ষা স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সত্য কথাকে বেশি পছন্দ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
- হাওয়াযিন গোত্র বন্দী ও সম্পদের মধ্যে বন্দীদের বেছে নেয়।
- সাহাবীদের সম্মতি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- স্বেচ্ছায় ছাড়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, জোর করা হয়নি।
