১/১০৪. অধ্যায়ঃ
ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে একত্রে আহার ও মেলামেশা করা
হায়েয অবস্থায় খাওয়া-পানার আদব ও পারিবারিক মমতা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৫৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৫৯
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَتَعَرَّقُ الْعَظْمَ وَأَنَا حَائِضٌ، فَأُعْطِيهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيَضَعُ فَمَهُ فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي فِيهِ وَضَعْتُهُ وَأَشْرَبُ الشَّرَابَ فَأُنَاوِلُهُ فَيَضَعُ فَمَهُ فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي كُنْتُ أَشْرَبُ مِنْهُ .
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হায়েয অবস্থায় হাড় চুষে খেয়ে তা নবী (ﷺ)-কে দিতাম। তিনিও তাঁর মুখ হাড়ের ঐ স্থানে লাগাতেন, যেখানে আমি লাগিয়েছি। আবার পানীয় দ্রব্য পান করে তাঁকে দিতাম। তিনি তখনও ঐ স্থান থেকে পান করতেন যেখানে মুখ লাগিয়ে আমি পান করেছি।
সহীহঃ মুসলিম।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) হায়েয অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্দর আচরণ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি হায়েয অবস্থায় হাড় চুষে খেয়ে তা নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে দিতেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর মুখ ঠিক সেই স্থানে লাগাতেন, যেখানে আয়িশা (রাঃ) মুখ লাগিয়েছিলেন। আবার তিনি পানীয় পান করে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে দিলে তিনিও সেই স্থান থেকেই পান করতেন, যেখান থেকে আয়িশা (রাঃ) পান করেছিলেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, হায়েয অবস্থায় নারীকে অপছন্দ করা বা তাকে দূরে সরিয়ে রাখা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আচরণ ছিল না। হায়েয অবস্থায় খাওয়া-পানার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক, সম্মানজনক ও স্নেহপূর্ণ আচরণ এখানে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েয অবস্থায় নারীর সাথে খাওয়া-পানায় দূরত্ব করার শিক্ষা নেই।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আয়িশা (রাঃ)-এর মুখ লাগানো স্থান থেকেই খেয়েছেন ও পান করেছেন।
- দাম্পত্য জীবনে সম্মান ও মমতার আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।
- হায়েয অবস্থাকে অপমানের কারণ বানানো উচিত নয়।
