১৫/৩৩. অধ্যায়ঃ
পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদে যোগদান প্রসঙ্গে
পিতা-মাতাকে কাঁদিয়ে নয়, হাসিয়ে আসার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৫২৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৫২৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : جِئْتُ أُبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَتَرَكْتُ أَبَوَىَّ يَبْكِيَانِ . فَقَالَ : " ارْجِعْ عَلَيْهِمَا فَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, “আমি আপনার কাছে হিজরতের বাই’আত নিতে এসেছি এবং আমার মাতা-পিতাকে কান্নারত অবস্থায় রেখে এসেছি।” তিনি বললেন: “তুমি ফিরে যাও। তাদেরকে যেভাবে কাঁদিয়েছ ঐভাবে তাদেরকে হাসাও।”
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পিতা-মাতার হকের একটি কোমল কিন্তু শক্তিশালী শিক্ষা আছে। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে হিজরতের বাই’আত নিতে আসে। সে জানায়, সে তার পিতা-মাতাকে কান্নারত রেখে এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে বলেন, ফিরে যাও; যেভাবে তাদের কাঁদিয়েছ, সেভাবে তাদের হাসাও। এখানে মূল বিষয় “পিতা-মাতার অধিকার”। হাদিসটি দেখায়, বড় ইবাদত বা বড় কাজের ইচ্ছা থাকলেও পিতা-মাতার মন ভেঙে গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হয়। “পিতা-মাতার সেবা”, “হিজরত ও পিতা-মাতা” এবং “মা-বাবার অধিকার” বিষয়ে এই হাদিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে হাদিসে নির্দিষ্ট এই ঘটনার কথাই এসেছে, তাই সব অবস্থার বিস্তারিত বিধান এখানে টেনে আনা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পিতা-মাতার কষ্টকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- ভালো কাজের ইচ্ছা থাকলেও পিতা-মাতার হক বিবেচনা করতে হয়।
- যাকে কাঁদানো হয়েছে, তাকে খুশি করার চেষ্টা করা উচিত।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পিতা-মাতার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
