১৫/২৬. অধ্যায়ঃ
যে লোক আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে
যে মানসিকতায় যুদ্ধ করবে সে অবস্থায় উঠবে
সুনানে আবূ দাউদ : ২৫১৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৫১৯
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ حَاتِمٍ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْوَضَّاحِ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ حَنَانِ بْنِ خَارِجَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْجِهَادِ، وَالْغَزْوِفَقَالَ : " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، إِنْ قَاتَلْتَ صَابِرًا مُحْتَسِبًا بَعَثَكَ اللَّهُ صَابِرًا مُحْتَسِبًا، وَإِنْ قَاتَلْتَ مُرَائِيًا مُكَاثِرًا بَعَثَكَ اللَّهُ مُرَائِيًا مُكَاثِرًا، يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، عَلَى أَىِّ حَالٍ قَاتَلْتَ أَوْ قُتِلْتَ بَعَثَكَ اللَّهُ عَلَى تِيكَ الْحَالِ " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে জিহাদ ও যুদ্ধের সম্পর্কে অবহিত করুন। হে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর! তুমি ধৈর্য ও নেকীর আশায় যুদ্ধ করলে আল্লাহ তোমাকে এ দুটি গুণে করে কেয়ামতের দিন উপস্থিত করবেন। আর যদি তুমি প্রদর্শন ইচ্ছা ও সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করো, তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে রিয়াকারী ও সম্পদলোভী করে উপস্থিত করাবেন। হে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর! তুমি যে মানসিকতা নিয়ে যুদ্ধ করবে কিংবা নিহত হবে, আল্লাহ তোমাকে উক্ত অবস্থায়ই উত্থিত করবেন।
দুর্বলঃ যঈফ আল-জামি’উস সাগীর (৬৩৯৭), মিশকাত (৩৮৪৭)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৫১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিহাদ ও যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে চান। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, যদি তুমি ধৈর্য ও নেকীর আশায় যুদ্ধ করো, আল্লাহ তোমাকে কেয়ামতের দিন সেই গুণে উপস্থিত করবেন। আর যদি রিয়া ও সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাকে রিয়াকারী ও সম্পদলোভী অবস্থায় উঠাবেন। শেষে বলা হয়েছে, যে অবস্থায় যুদ্ধ করবে বা নিহত হবে, আল্লাহ তাকে সেই অবস্থায়ই উঠাবেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বাহ্যিক কাজের চেয়ে অন্তরের মানসিকতা বড় বিষয়। জিহাদে নিয়ত, ধৈর্য, নেকীর আশা, রিয়া এবং দুনিয়ার লোভ—এসব বিষয় সরাসরি এসেছে। হাদিসটি মুমিনকে সতর্ক করে যে আল্লাহর পথে কাজ করার দাবি করলেই যথেষ্ট নয়; হৃদয়ের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধৈর্য ও নেকীর আশায় কাজ করা প্রশংসনীয়।
- রিয়া ও সম্পদলোভ আমলের অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- কিয়ামতে মানুষ তার মানসিকতার ভিত্তিতে উঠতে পারে—হাদিসে এমন সতর্কতা এসেছে।
- আল্লাহর পথে কাজের আগে নিজের উদ্দেশ্য যাচাই করা দরকার।
