১৩/৪০. অধ্যায়ঃ
যিনি ফাতিমা (রাঃ)-এর হাদিসটি অস্বীকার করেন
তালাকপ্রাপ্তা নারীর স্বামীর ঘরে থাকার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২২৯৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২২৯৫
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُمَا يَذْكُرَانِ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، طَلَّقَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَكَمِ الْبَتَّةَ فَانْتَقَلَهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ فَقَالَتْ لَهُ اتَّقِ اللَّهَ وَارْدُدِ الْمَرْأَةَ إِلَى بَيْتِهَا . فَقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ غَلَبَنِي . وَقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ الْقَاسِمِ أَوَمَا بَلَغَكِ شَأْنُ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لاَ يَضُرُّكَ أَنْ لاَ تَذْكُرَ حَدِيثَ فَاطِمَةَ . فَقَالَ مَرْوَانُ إِنْ كَانَ بِكِ الشَّرُّ فَحَسْبُكِ مَا كَانَ بَيْنَ هَذَيْنِ مِنَ الشَّرِّ .
আল-ক্বাযিম ইবনু মুহাম্মাদ ও সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইয়াহিয়া ইবন সাঈদ ইবনুল আস আবদুর রহমান ইবনুল হাকামের কন্যাকে চূড়ান্ত তালাক প্রদান করায় আবদুর রহমান তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ খবর শুনে আয়িশা (রাঃ) মদিনার গভর্নর মারওয়ান ইবনুল হাকামের কাছে লোক মারফত বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং মহিলাকে তার (স্বামীর) ঘরে পাঠিয়ে দাও। সুলায়মান বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ মারওয়ান বললেন, আবদুর রহমান এ বিষয়ে আমার উপর প্রভাব খাটিয়েছে। আল-কাসিম বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ মারওয়ান বলেন, আপনার কাছে কি ফাতিমা বিনত কায়িসের হাদিস পৌঁছেনি? আয়িশা (রাঃ) বললেন, ফাতিমা বিনত কায়িসের ঘটনা উল্লেখ না করলে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। মারওয়ান বললেন, আপনি তাতে মন্দ কিছু দেখলে, তা এই দম্পতির ব্যাপারেও যথেষ্ট হবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইয়াহিয়া ইবন সাঈদ ইবনুল আস আবদুর রহমান ইবনুল হাকামের কন্যাকে চূড়ান্ত তালাক দেন। এরপর আবদুর রহমান তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে আয়িশা (রাঃ) মদিনার গভর্নর মারওয়ানকে বলেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং মহিলাকে তার স্বামীর ঘরে পাঠিয়ে দাও। মারওয়ান ফাতিমা বিনত কায়েস (রাঃ)-এর হাদিসের কথা তুললে আয়িশা (রাঃ) বলেন, সেই ঘটনা উল্লেখ না করলেও ক্ষতি নেই। এই বর্ণনায় ইদ্দতস্থানের বিষয়ে আয়িশা (রাঃ)-এর অবস্থান স্পষ্টভাবে এসেছে। তিনি তালাকপ্রাপ্তা নারীর স্বামীর ঘরে থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ফাতিমা (রাঃ)-এর ঘটনাকে সাধারণভাবে প্রয়োগ করার ব্যাপারে সতর্কতা দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দতস্থানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
- আয়িশা (রাঃ) আল্লাহভীতির সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন।
- একটি বিশেষ ঘটনাকে সব ক্ষেত্রে প্রয়োগে সতর্কতা দরকার।
- পারিবারিক বিষয়ে শাসক বা দায়িত্বশীলের ভূমিকা থাকতে পারে।
