১৩/১০. অধ্যায়ঃ
তিন তালাকের পর স্ত্রীকে পুনঃগ্রহণ প্রসঙ্গ
একত্রে তিন তালাক: ইবন আব্বাস রাঃ-এর সতর্কতা
সুনানে আবূ দাউদ : ২১৯৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২১৯৭
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا . قَالَ فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ رَادُّهَا إِلَيْهِ . ثُمَّ قَالَ يَنْطَلِقُ أَحَدُكُمْ فَيَرْكَبُ الْحَمُوقَةَ ثُمَّ يَقُولُ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ وَإِنَّ اللَّهَ قَالَ { وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا } وَإِنَّكَ لَمْ تَتَّقِ اللَّهَ فَلَمْ أَجِدْ لَكَ مَخْرَجًا عَصَيْتَ رَبَّكَ وَبَانَتْ مِنْكَ امْرَأَتُكَ وَإِنَّ اللَّهَ قَالَ { يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ } فِي قُبُلِ عِدَّتِهِنَّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ حُمَيْدٌ الأَعْرَجُ وَغَيْرُهُ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَيُّوبُ وَابْنُ جُرَيْجٍ جَمِيعًا عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَرَوَاهُ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَرَوَاهُ الأَعْمَشُ عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ كُلُّهُمْ قَالُوا فِي الطَّلاَقِ الثَّلاَثِ إِنَّهُ أَجَازَهَا قَالَ وَبَانَتْ مِنْكَ نَحْوَ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِذَا قَالَ " أَنْتِ طَالِقٌ ثَلاَثًا " . بِفَمٍ وَاحِدٍ فَهِيَ وَاحِدَةٌ وَرَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ هَذَا قَوْلُهُ لَمْ يَذْكُرِ ابْنَ عَبَّاسٍ وَجَعَلَهُ قَوْلَ عِكْرِمَةَ .
মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে অবস্থান করছিলাম এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল যে, সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এ কথা শুনে চুপ রইলেন। তখন আমার মনে হলো, সম্ভবত তিনি মহিলাটিকে পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ দিবেন।অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের কেউ আহমকের মতো কাজ করে এবং এসে বলে, হে ইবন আব্বাস! হে ইবন আব্বাস! অথচ আল্লাহ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য একটা সমাধানের পথ দেখিয়ে দিবেন” (সূরা আত-তালাক: ২)। আর তুমি তো (তালাকের ব্যাপারে) আল্লাহকে ভয় করোনি। সুতরাং আমি তোমার জন্য কোনো পথ দেখছি না। তুমি তোমার রবের নাফরমানী করেছ এবং স্ত্রীরাও হারিয়েছ।আল্লাহ বলেছেন: “হে নবী! যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দিবে তখন তাদের ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দিবে।”ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদিসটি হুমাইদ, আ‘রাজ ও অন্যরা মুজাহিদের হতে ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও শুবা, আইয়ুব, ইবন জুরাইজ, আ‘মাশ প্রমুখ বর্ণনাকারীগণ সকলেই ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে হাদিস বর্ণনা করে বলেছেন যে, ইবন আব্বাস (রাঃ) একে তিন তালাক হিসেবে গণ্য করেছেন। তাই তিনি বলেছেন, ‘তুমি তোমার স্ত্রীকে হারালে’।ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, হাম্মাদ ইবন যায়িদ আইয়ুব হতে ইকরিমার মাধ্যমে ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: “যদি কেউ তার স্ত্রীকে একত্রে তিন তালাক দেয়, তা এক তালাক গণ্য হবে”।ইসমাঈল ইবন ইব্রাহিম (রহঃ) আইয়ুব হতে ইকরিমা (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন, উক্ত কথাটি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নয়, বরং ইকরিমার কথা। তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি এবং একে ইকরিমার (রহঃ) অভিমত গণ্য করেছেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুজাহিদ বলেন, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে জানায়, সে স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) কিছুক্ষণ চুপ থাকেন। পরে বলেন, তোমাদের কেউ আহাম্মকের মতো কাজ করে, তারপর এসে সমাধান চায়। তিনি আল্লাহর বাণী স্মরণ করান—যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য পথ করে দেন। এরপর বলেন, তুমি আল্লাহকে ভয় করোনি, তাই আমি তোমার জন্য পথ দেখছি না; তুমি রবের নাফরমানী করেছ এবং স্ত্রীকে হারিয়েছ। শেষে তিনি ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দেওয়ার আয়াত পড়েন। এই হাদিস তালাকের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া ও অবাধ্যতা থেকে কঠিন সতর্কতা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একত্রে তিন তালাকের মতো কাজ বড় ঝুঁকির বিষয়।
- তালাকের আগে আল্লাহভীতি ও ইদ্দতের নিয়ম মনে রাখা দরকার।
- ভুল সিদ্ধান্তের পর সব সময় সহজ সমাধান পাওয়া যায় না।
- তালাক নিয়ে তাড়াহুড়া ও আবেগী আচরণ থেকে বাঁচতে হবে।
