১৩/১০. অধ্যায়ঃ
তিন তালাকের পর স্ত্রীকে পুনঃগ্রহণ প্রসঙ্গ
তালাক দুই বার: ইদ্দতের কুরআনি শিক্ষা
সুনানে আবু দাউদ : ২১৯৫
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ২১৯৫
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ { وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاَثَةَ قُرُوءٍ وَلاَ يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ } الآيَةَ وَذَلِكَ أَنَّ الرَّجُلَ كَانَ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَهُوَ أَحَقُّ بِرَجْعَتِهَا وَإِنْ طَلَّقَهَا ثَلاَثًا فَنُسِخَ ذَلِكَ وَقَالَ { الطَّلاَقُ مَرَّتَانِ } .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর বাণী: “তালাকপ্রাপ্ত নারী যেন তিন কুরু পর্যন্ত নিজেদেরকে বিরত রাখে এবং আল্লাহ তাদের গর্ভে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা গোপন করা বৈধ নয়…” এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গ হলো, (ইসলামের প্রথম যুগে) কেউ স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার অধিকারী হতো, এমনকি তাকে তিন তালাক দিত। অতঃপর এ বিধান রহিত করে আল্লাহ বলেছেন: “তালাক দুই বার…”।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ২১৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) তালাকের আয়াতের প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করেছেন। আয়াতে এসেছে, তালাকপ্রাপ্ত নারীরা তিন কুরু পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং আল্লাহ তাদের গর্ভে যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন করা বৈধ নয়। বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইসলামের প্রথম সময়ে কেউ স্ত্রীকে তালাক দিলে তাকে ফিরিয়ে আনার অধিকার রাখত, এমনকি তিন তালাক দিলেও। পরে আল্লাহ এই বিধান পরিবর্তন করে বলেন, তালাক দুই বার। এখানে মূল শিক্ষা হলো, তালাকের বিষয়টি আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখা হয়েছে। ইদ্দত, গর্ভের খবর এবং রাজআতের অধিকার—এসব বিষয় নারীর অধিকার ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত। তাই তালাককে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালাকপ্রাপ্ত নারীর ইদ্দতের বিধান আছে।
- গর্ভের বিষয় গোপন করা বৈধ নয় বলে আয়াতে এসেছে।
- তালাকের অধিকার সীমাহীন নয়; ‘তালাক দুই বার’ বলা হয়েছে।
- রাজআত ও তালাক আল্লাহর নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে।
