১২/৪৪. অধ্যায়ঃ
যে বিষয়ে দৃষ্টি সংযত রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে
চোখ, জিহ্বা ও অন্তরের যেনা সম্পর্কে হাদিস
সুনানে আবূ দাউদ : ২১৫২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২১৫২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا أَشْبَهَ بِاللَّمَمِ مِمَّا قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا أَدْرَكَ ذَلِكَ لاَ مَحَالَةَ فَزِنَا الْعَيْنَيْنِ النَّظَرُ وَزِنَا اللِّسَانِ الْمَنْطِقُ وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ وَيُكَذِّبُهُ " .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে নবী (ﷺ) সূত্রে বর্ণিত হাদিসের চাইতে সগীরা গুনাহ সম্পর্কিত কোন হাদিস দেখিনি। মহান আল্লাহ প্রতিটি আদম সন্তানের মধ্যে যেনার একটি অংশ নির্ধারণ করে রেখেছেন, যা সে অবশ্যই করবে। সুতরাং দৃষ্টি হচ্ছে চোখের যেনা, প্রেমালাপ হচ্ছে জিহ্বার যেনা এবং অন্তরের যেনা হচ্ছে তা ভোগ করার আকাঙ্ক্ষা, আর গুপ্তস্থান তা সত্য কিংবা মিথ্যায় পরিণত করে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সগীরা গুনাহ এবং যেনার দিকে নিয়ে যাওয়া কাজগুলো নিয়ে গভীর সতর্কতা আছে। বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ প্রতিটি আদম সন্তানের মধ্যে যেনার একটি অংশ নির্ধারণ করেছেন, যা সে পাবে। এরপর বলা হয়েছে, দৃষ্টি হচ্ছে চোখের যেনা, প্রেমালাপ বা অনুচিত কথা হচ্ছে জিহ্বার যেনা, আর অন্তরের যেনা হচ্ছে তা ভোগ করার আকাঙ্ক্ষা। শেষে গুপ্তস্থান তা সত্য বা মিথ্যা করে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বড় গুনাহের আগে ছোট ছোট দরজা থাকে। চোখ, কথা ও মন—এসব নিয়ন্ত্রণ না করলে মানুষ ধীরে ধীরে ভুল পথে যেতে পারে। হাদিসটি দৃষ্টি সংযম, জিহ্বা সংযম এবং অন্তরের হিফাজতের দিকে সতর্ক করে। তাই মুমিনের জন্য বাহ্যিক কাজের পাশাপাশি ভেতরের চাহিদাও সামলানো জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চোখের অনিয়ন্ত্রিত দৃষ্টি গুনাহের দিকে নিতে পারে।
- অনুচিত কথা বা প্রেমালাপ জিহ্বার ভুল ব্যবহার।
- অন্তরের আকাঙ্ক্ষাকেও নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
- গুপ্তস্থান শেষ পর্যন্ত ইচ্ছাকে সত্য বা মিথ্যা করে।
