১২/২৮. অধ্যায়ঃ

মোহরানা সম্পর্কে

পুরনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ের দাবি

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২১০৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ مِقْسَمٍ الثَّقَفِيُّ، - مِنْ أَهْلِ الطَّائِفِ - حَدَّثَتْنِي سَارَّةُ بِنْتُ مِقْسَمٍ، أَنَّهَا سَمِعَتْ مَيْمُونَةَ بِنْتَ كَرْدَمٍ، قَالَتْ خَرَجْتُ مَعَ أَبِي فِي حَجَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَنَا إِلَيْهِ أَبِي وَهُوَ عَلَى نَاقَةٍ لَهُ فَوَقَفَ لَهُ وَاسْتَمَعَ مِنْهُ وَمَعَهُ دِرَّةٌ كَدِرَّةِ الْكُتَّابِ فَسَمِعْتُ الأَعْرَابَ وَالنَّاسَ وَهُمْ يَقُولُونَ الطَّبْطَبِيَّةَ الطَّبْطَبِيَّةَ الطَّبْطَبِيَّةَ فَدَنَا إِلَيْهِ أَبِي فَأَخَذَ بِقَدَمِهِ فَأَقَرَّ لَهُ وَوَقَفَ عَلَيْهِ وَاسْتَمَعَ مِنْهُ فَقَالَ إِنِّي حَضَرْتُ جَيْشَ عِثْرَانَ - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى جَيْشَ غِثْرَانَ - فَقَالَ طَارِقُ بْنُ الْمُرَقَّعِ مَنْ يُعْطِينِي رُمْحًا بِثَوَابِهِ قُلْتُ وَمَا ثَوَابُهُ قَالَ أُزَوِّجُهُ أَوَّلَ بِنْتٍ تَكُونُ لِي ‏.‏ فَأَعْطَيْتُهُ رُمْحِي ثُمَّ غِبْتُ عَنْهُ حَتَّى عَلِمْتُ أَنَّهُ قَدْ وُلِدَ لَهُ جَارِيَةٌ وَبَلَغَتْ ثُمَّ جِئْتُهُ فَقُلْتُ لَهُ أَهْلِي جَهِّزْهُنَّ إِلَىَّ ‏.‏ فَحَلَفَ أَنْ لاَ يَفْعَلَ حَتَّى أُصْدِقَهُ صَدَاقًا جَدِيدًا غَيْرَ الَّذِي كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ وَحَلَفْتُ لاَ أُصْدِقُ غَيْرَ الَّذِي أَعْطَيْتُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَبِقَرْنِ أَىِّ النِّسَاءِ هِيَ الْيَوْمَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قَدْ رَأَتِ الْقَتِيرَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَرَى أَنْ تَتْرُكَهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَرَاعَنِي ذَلِكَ وَنَظَرْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ مِنِّي قَالَ ‏"‏ لاَ تَأْثَمُ وَلاَ يَأْثَمُ صَاحِبُكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْقَتِيرُ الشَّيْبُ ‏.‏

সারাহ বিনতু মিক্বসাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি মায়মূনা বিনতু কারদাম (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হজ্জের বছরে আমি আমার পিতার সাথে বের হলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখে আমার পিতা তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। এ সময় তিনি তাঁর উটের উপর ছিলেন এবং তাঁর সাথে ছিল শিক্ষকদের হাতে যেরূপ দোররা থাকে সেরূপ দোররা। এ সময় আমি আরব ও অন্যান্যদের বলতে শুনলাম, দোররা থেকে দূরে থাকো, দোররা থেকে দূরে থাকো, দোররা থেকে দূরে থাকো।অতঃপর আমার পিতা তাঁর কাছে গিয়েই তাঁর পা দু’খানা জড়িয়ে ধরে তাঁর রিসালাতের স্বীকৃতি দেন, তার কাছে অবস্থান করেন এবং তার কথা শুনেন।আমার পিতা বলেন, আমি (জাহেলী যুগে) ‘আস্রান’ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনায় রয়েছে ‘গিসরান’। তখন তারিক ইবনুল মুরাক্কা বলল, আমাকে এর বিনিময়ে কে একটি বরচ্ছেদ দিবে? আমি বললাম, এর বিনিময় কী? সে বলল, আমার সর্বপ্রথম যে কন্যাটি জন্মগ্রহণ করবে তাকে তার সাথে বিয়ে দিবো। আমি আমার বরচ্ছেদটি তাকে দিলাম।এরপর আমি তাদের কাছ থেকে চলে গেলাম। পরে আমি জানতে পারলাম, তার কন্যা সন্তান জন্ম হয়েছে এবং সে সাবালিকাও হয়েছে। অতঃপর আমি তার নিকট গিয়ে বললাম, আমার স্ত্রী আমাকে দিন। সুতরাং তারা তাকে আমার নিকট সোপর্দ করতে প্রস্তুতি নিলো। কিন্তু সে (পিতা) শপথ করে বললো, অতিরিক্ত কিছু মোহর না দিলে কন্যাকে দিবো না। অপরদিকে আমিও শপথ করি, তাকে পূর্বে যা দিয়েছি, তা ছাড়া অতিরিক্ত কিছু দিবো না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বর্তমানে সে একজন মহিলা। হয়তো সে তোমাকে (বৃদ্ধ) দেখেছে। তিনি আরো বললেনঃ আমার ইচ্ছা, তুমি তাকে ত্যাগ করো।তিনি (কারদাম) বলেন, আমি আমার শপথের জন্য ভীত হলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে তাকালাম। তিনি আমার অবস্থা অনুধাবন করে বললেনঃ (শপথের কারণে) তোমার কোনো গুনাহ হবে না এবং তোমার প্রতিপক্ষেরও কোনো গুনাহ হবে না।

[২১০৩] আহমাদ, আবূ নু‘আইম ‘হিলয়্যা’। সানাদে সারা বিনতু মিকসাম রয়েছে। হাফিয বলেনঃ তাকে চেনা যায়নি। আল্লামা মুনযিরী বলেনঃ এই হাদীসের সানাদে গরমিল আছে, এবং সানাদে একজন অপরিচিত লোক রয়েছে।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২১০৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মায়মূনা বিনতু কারদাম (রহঃ)-এর পিতার ঘটনা এসেছে। জাহেলী যুগে এক ব্যক্তি বরচ্ছেদের বিনিময়ে নিজের ভবিষ্যৎ প্রথম কন্যাকে বিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল। পরে সেই কন্যা জন্ম নেয় এবং সাবালিকা হয়। তখন পুরনো প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তাকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করা হয়। কিন্তু মেয়ের পিতা নতুন মোহর দাবি করেন, আর দাবিদার ব্যক্তি আগের দেওয়া জিনিস ছাড়া বেশি দিতে চাননি। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে এলে তিনি বলেন, এখন সে একজন মহিলা; সম্ভবত সে তোমাকে বৃদ্ধ দেখেছে। তিনি তাকে ত্যাগ করার পরামর্শ দেন। শপথ নিয়ে ভয় দেখা দিলে তিনি জানান, এতে তার বা অপর পক্ষের গুনাহ হবে না। এই হাদিসে বিয়ের প্রতিশ্রুতি, মেয়ের অবস্থা, বয়স, সম্মান এবং জোর না করার শিক্ষা স্পষ্ট।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জাহেলী যুগের পুরনো শর্ত দিয়ে কাউকে চাপে ফেলা ঠিক নয়।
  • বিয়ের বিষয়ে মেয়ের বর্তমান অবস্থা ও পছন্দ বিবেচ্য।
  • শপথের কারণে ভুল সিদ্ধান্তে আটকে থাকা উচিত নয়।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কঠোর দাবির বদলে ছাড় দেওয়ার পথ দেখিয়েছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন