১২/১৩. অধ্যায়ঃ

মুতআ বিবাহ

ফাতিমা রাঃ-এর মর্যাদা ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর সতর্কতা

সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ২০৬৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ الدُّؤَلِيُّ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ الْحُسَيْنِ حَدَّثَهُ أَنَّهُمْ، حِينَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ مِنْ عِنْدِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ مَقْتَلَ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ - رضى الله عنهما - لَقِيَهُ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ فَقَالَ لَهُ هَلْ لَكَ إِلَىَّ مِنْ حَاجَةٍ تَأْمُرُنِي بِهَا قَالَ فَقُلْتُ لَهُ لاَ ‏.‏ قَالَ هَلْ أَنْتَ مُعْطِيَّ سَيْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَغْلِبَكَ الْقَوْمُ عَلَيْهِ وَايْمُ اللَّهِ لَئِنْ أَعْطَيْتَنِيهِ لاَ يُخْلَصُ إِلَيْهِ أَبَدًا حَتَّى يَبْلُغَ إِلَى نَفْسِي إِنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ - رضى الله عنه - خَطَبَ بِنْتَ أَبِي جَهْلٍ عَلَى فَاطِمَةَ - رضى الله عنها - فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ النَّاسَ فِي ذَلِكَ عَلَى مِنْبَرِهِ هَذَا وَأَنَا يَوْمَئِذٍ مُحْتَلِمٌ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّ فَاطِمَةَ مِنِّي وَأَنَا أَتَخَوَّفُ أَنْ تُفْتَنَ فِي دِينِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ ذَكَرَ صِهْرًا لَهُ مِنْ بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ فَأَثْنَى عَلَيْهِ فِي مُصَاهَرَتِهِ إِيَّاهُ فَأَحْسَنَ قَالَ ‏"‏ حَدَّثَنِي فَصَدَقَنِي وَوَعَدَنِي فَوَفَّى لِي وَإِنِّي لَسْتُ أُحَرِّمُ حَلاَلاً وَلاَ أُحِلُّ حَرَامًا وَلَكِنْ وَاللَّهِ لاَ تَجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ وَبِنْتُ عَدُوِّ اللَّهِ مَكَانًا وَاحِدًا أَبَدًا ‏"‏ ‏.‏

ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আলী ইবনুল হুসাইন (রহঃ) তাকে বর্ণনা করেন যে, হুসাইন ইবনু আলী (রাঃ)-এর শাহাদাতের পর যখন তারা ইয়াজিদ ইবনু মুয়াবিয়ার নিকট থেকে মদিনায় আসলেন, তখন আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) তার সাথে সাক্ষাত করে বললেন, আপনি আমার উপর কোন কাজের দায়িত্ব অর্পণ করবেন কি? তিনি বললেন, না।এরপর মিসওয়ার বললেন, আপনি কি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তলোয়ার খানি দিবেন? কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে, লোকেরা আপনার উপর প্রভাব বিস্তার করবে। আল্লাহর শপথ! আপনি আমাকে তা দান করলে কেউ আমার দেহকে নিঃশেষ না করা পর্যন্ত তা ছিনিয়ে নিতে পারবে না।আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ) বর্তমান থাকতে আবু জাহলের কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। আমি নবী (ﷺ)-কে এই মিম্বারের উপর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে শুনেছি। তখন আমি যুবক ছিলাম। ফাতিমা আমার দেহের একটি অংশ। আর আমার ভয় হচ্ছে, সে দিনী ফিতনায় পতিত হবে।বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি (ﷺ) বনী আব্দি শামসের সাথে শ্বশুর-জামাতার সম্পর্কের আলাপ করলেন। আর উক্ত শ্বশুর সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ভূয়সী প্রশংসাই করলেন। সে (জামাতা) আমার সাথে যে কথা দিয়েছিল তা সত্যে পরিণত করেছে এবং যে ওয়াদা করেছিল তাও পূরণ করেছে। কোন হালাল জিনিসকে হারাম এবং হারাম জিনিসকে হালাল করার অধিকার আমার নেই। তবে আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর দুশমনের কন্যা কখনো এক জায়গায় একত্রে হতে পারে না।

সুনানে আবু দাউদ হাদিস ২০৬৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা এবং একটি বিশেষ বিবাহ প্রস্তাবের ঘটনা এসেছে। আলী (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ) বর্তমান থাকতে আবু জাহলের কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। নবী (صلى الله عليه وسلم) মিম্বারে ভাষণ দিয়ে বলেন, ফাতিমা আমার দেহের একটি অংশ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এতে ফাতিমা (রাঃ) দীনী পরীক্ষায় পড়তে পারেন। একই সঙ্গে নবী (صلى الله عليه وسلم) পরিষ্কার করেন, তিনি কোনো হালালকে হারাম করছেন না এবং কোনো হারামকে হালাল করছেন না। তবে আল্লাহর রাসূলের কন্যা ও আল্লাহর দুশমনের কন্যা এক জায়গায় একত্র হতে পারে না। হাদিসটি ফাতিমা রাঃ-এর সম্মান, পারিবারিক অনুভূতি এবং বিশেষ ঘটনার শরয়ি সতর্কতা শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ফাতিমা (রাঃ)-এর কষ্টকে নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের কষ্টের মতো দেখেছেন।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) হালাল-হারাম পরিবর্তনের দাবি করেননি।
  • পরিবারের অনুভূতি ও দীনী নিরাপত্তা বিবেচনার বিষয়।
  • বিশেষ ঘটনার ভাষা বুঝে সতর্কভাবে ব্যাখ্যা করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন