১১/৬৫. অধ্যায়ঃ
মুযদালিফায় সালাত আদায়
হজ্জে শান্তভাবে চলা: নবীজির নির্দেশ
সুনানে আবূ দাউদ : ১৯২২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৯২২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ ثُمَّ أَرْدَفَ أُسَامَةَ فَجَعَلَ يُعْنِقُ عَلَى نَاقَتِهِ وَالنَّاسُ يَضْرِبُونَ الإِبِلَ يَمِينًا وَشِمَالاً لاَ يَلْتَفِتُ إِلَيْهِمْ وَيَقُولُ " السَّكِينَةَ أَيُّهَا النَّاسُ " . وَدَفَعَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
অতঃপর তিনি উসামাকে বাহনের পেছনে বসিয়ে মধ্যম গতিতে উষ্ট্রী চালিয়ে গেলেন। এ সময় লোকেরা তাদের উটকে ডানে-বামে মারধর করে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তিনি তাদের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বলতে লাগলেন, “হে লোকেরা! শান্ত গতিতে চলো।” অতঃপর সূর্য ডুবার পরই তিনি আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করেন।
হাসান, তার এ কথাটি বাদে : ‘তিনি ভ্রুক্ষেপ করলেন না।’ মাহফূয হলো : তিনি লক্ষ্য করলেন।’ ইমাম তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৯২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আরাফা থেকে ফেরার সময় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর চলার ধরন বর্ণিত হয়েছে। তিনি উসামা (রাঃ)-কে বাহনের পেছনে বসিয়ে মধ্যম গতিতে চলছিলেন। এ সময় অনেক মানুষ তাদের উটকে ডানে-বামে মারতে মারতে দ্রুত চালাচ্ছিল। কিন্তু নবীজি তাদের দিকে মন না দিয়ে বারবার বলছিলেন, হে লোকেরা, শান্ত গতিতে চলো। এরপর সূর্য ডোবার পর তিনি আরাফা থেকে রওয়ানা হন। এই বর্ণনায় হজ্জের ভিড়ে ধৈর্য, শান্ত গতি এবং অন্যকে কষ্ট না দেওয়ার শিক্ষা আছে। হজ্জের যাত্রা শুধু শারীরিক চলাফেরা নয়; এতে আদব, সংযম ও নবীজির অনুসরণও জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভিড়ের মধ্যে ধীর ও শান্তভাবে চলা নবীজির শেখানো আদব।
- অন্যের ক্ষতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করে দ্রুত চলা ঠিক নয়।
- আরাফা থেকে ফেরার ক্ষেত্রে সূর্যাস্তের পর রওয়ানা হওয়ার কথা এসেছে।
- নেতৃত্বের সৌন্দর্য হলো মানুষকে শান্ত ও সুশৃঙ্খল পথে ডাকা।
