১১/৫৯. অধ্যায়ঃ
মিনায় গমন প্রসঙ্গ
আরাফায় অবস্থান: কুরআনের নির্দেশ ও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল
সুনানে আবু দাউদ : ১৯১০
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ১৯১০
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ قُرَيْشٌ وَمَنْ دَانَ دِينَهَا يَقِفُونَ بِالْمُزْدَلِفَةِ وَكَانُوا يُسَمَّوْنَ الْحُمْسَ وَكَانَ سَائِرُ الْعَرَبِ يَقِفُونَ بِعَرَفَةَ قَالَتْ فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْتِيَ عَرَفَاتٍ فَيَقِفَ بِهَا ثُمَّ يُفِيضَ مِنْهَا فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى { ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ } .
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কুরাইশরা এবং তাদের ধর্মের অনুসারীরা মুযদালিফায় অবস্থান করত এবং নিজেদের এরূপ আচরণকে বীরত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করত। অথচ আরবের অন্যান্য লোকেরা আরাফাতে অবস্থান করত। আয়িশা (রাঃ) বলেন, ইসলামের আবির্ভাবের পর মহান আল্লাহ তাঁর নবী (ﷺ)-কে আরাফাতে গমনের ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী ’’তোমরাও সেখান থেকে ফিরে যাও যেখান থেকে অন্যান্য লোক ফিরে আসে।”
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ১৯১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) আরাফায় অবস্থান সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। কুরাইশ এবং তাদের ধর্মের অনুসারীরা আগে মুযদালিফায় অবস্থান করত এবং নিজেদের আলাদা আচরণকে বিশেষ মর্যাদা দিত। অন্যদিকে আরবের বাকি লোকেরা আরাফায় অবস্থান করত। ইসলাম আসার পর আল্লাহ তাঁর নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে আরাফাতে যেতে, সেখানে অবস্থান করতে এবং সেখান থেকে ফিরে আসতে নির্দেশ দেন। এর সঙ্গে কুরআনের বাণী উল্লেখ করা হয়েছে—তোমরাও সেখান থেকে ফিরে যাও, যেখান থেকে অন্যান্য লোক ফিরে আসে। তাই এই হাদিস আরাফা, মুযদালিফা এবং ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী হজ্জের আমল ঠিক করার বিষয়টি বোঝায়। এতে পুরনো গর্বের রীতি ছেড়ে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলামে আরাফায় অবস্থানের নির্দেশ এসেছে।
- পুরনো আলাদা রীতি নয়, আল্লাহর নির্দেশই হজ্জের আমলের ভিত্তি।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ইবাদতে জাতিগত গর্ব বা আলাদা পরিচয়ের চেয়ে আনুগত্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
