১১/৪৩. অধ্যায়ঃ
ফিদয়া (ক্ষতিপূরণ) সম্পর্কে
মুহরিমের পঙ্গপাল শিকার করার প্রসঙ্গ
সুনানে আবূ দাউদ : ১৮৫৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৮৫৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ حَبِيبٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ أَبِي الْمُهَزِّمِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَصَبْنَا صِرْمًا مِنْ جَرَادٍ فَكَانَ رَجُلٌ مِنَّا يَضْرِبُهُ بِسَوْطِهِ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ هَذَا لاَ يَصْلُحُ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّمَا هُوَ مِنْ صَيْدِ الْبَحْرِ " . سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ يَقُولُ أَبُو الْمُهَزِّمِ ضَعِيفٌ وَالْحَدِيثَانِ جَمِيعًا وَهَمٌ .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ফড়িংয়ের একটি বিরাট দলের মধ্যে পৌঁছলে জনৈক মুহরিম ব্যক্তি তার চাবুক দিয়ে সেগুলো মারতে লাগলো। কেউ বললো, মুহরিমের জন্য এরূপ করা উচিত নয়। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ)-কে তা অবহিত করালে তিনি বলেনঃ এটা হচ্ছে সামুদ্রিক শিকার।
খুবই দুর্বল : ইরওয়া (১০৩১)।(বর্ণনাকারী বলেন), আমি ইমাম আবূ দাউদকে বলতে শুনেছি, আবুল মুহাযযিম হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। তার বর্ণিত হাদীসদ্বয় সন্দেহযুক্ত।[১৮৫৪] তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী, আহমাদ। সানাদের আবূ মুহাযযিম সম্পর্কে হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেন : মাতরূক।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৮৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে। সাহাবীরা ফড়িং বা পঙ্গপালের বড় দলের মধ্যে পৌঁছলেন। একজন মুহরিম ব্যক্তি চাবুক দিয়ে সেগুলো মারতে লাগলেন। কেউ আপত্তি করে বলল, মুহরিমের জন্য এমন করা ঠিক নয়। পরে বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানানো হলে তিনি বলেন, এটি সামুদ্রিক শিকার। হাদিসটির মূল আলোচ্য হলো “মুহরিম পঙ্গপাল শিকার”। বর্ণনার শেষে আবূ দাউদ (রহ.) আবূ মুহাযযিম সম্পর্কে দুর্বলতার কথা বলেছেন এবং দুই হাদিস নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাই এই হাদিস পাঠে মূল ঘটনা ও বর্ণনার মান—দুই দিকেই সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুহরিমের কাজ নিয়ে সন্দেহ হলে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছে।
- পঙ্গপাল সম্পর্কে সামুদ্রিক শিকারের ভাষা এসেছে।
- বর্ণনার শেষে রাবী সম্পর্কে দুর্বলতার মন্তব্য আছে, তাই সতর্কভাবে পড়া দরকার।
- হাদিসটি পঙ্গপাল বিষয়ে, সাধারণ সব শিকার বিষয়ে নয়।
