১১/২৪. অধ্যায়ঃ
হজ্জে কিরান
হায়েয অবস্থায় হজ্জের কোন কাজ করা যাবে
সুনানে আবূ দাউদ : ১৭৮২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৭৮২
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ لَبَّيْنَا بِالْحَجِّ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِسَرِفَ حِضْتُ فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ " مَا يُبْكِيكِ يَا عَائِشَةُ " . فَقُلْتُ حِضْتُ لَيْتَنِي لَمْ أَكُنْ حَجَجْتُ . فَقَالَ " سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّمَا ذَلِكَ شَىْءٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ " . فَقَالَ " انْسُكِي الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ " . فَلَمَّا دَخَلْنَا مَكَّةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ شَاءَ أَنْ يَجْعَلَهَا عُمْرَةً فَلْيَجْعَلْهَا عُمْرَةً إِلاَّ مَنْ كَانَ مَعَهُ الْهَدْىُ " . قَالَتْ وَذَبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نِسَائِهِ الْبَقَرَ يَوْمَ النَّحْرِ فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْبَطْحَاءِ وَطَهُرَتْ عَائِشَةُ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَرْجِعُ صَوَاحِبِي بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ وَأَرْجِعُ أَنَا بِالْحَجِّ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَذَهَبَ بِهَا إِلَى التَّنْعِيمِ فَلَبَّتْ بِالْعُمْرَةِ .
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধলাম কিন্তু সারিফ নামক স্থানে পৌঁছালে আমার হায়েয আরম্ভ হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে আসলেন, তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি বললেন: হে আয়িশা! তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, হায়েয হয়েছে, আমি তো হজ্জ করতে পারলাম না। তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! এতো সেই বস্তু যা আল্লাহ আদমের কন্যাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন। সুতরাং তুমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের অন্যান্য সব কাজ সম্পন্ন করো। আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমরা মক্কায় প্রবেশ করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: যার সাথে কুরবানির পশু আছে সে ছাড়া যে কেউ তার ইহরাম উমরায় পরিণত করতে পারে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, কুরবানির দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় স্ত্রীদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানি করেন। অতঃপর বাতহা'র রাতে আয়িশা (রাঃ) হায়েয থেকে পবিত্র হলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সাথীরা হজ্জ ও উমরা সম্পন্ন করে ফিরে যাবে, আর আমি কি শুধু হজ্জ করেই ফিরব? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবদুর রহমান ইবনু আবু বকরকে নির্দেশ দিলে তিনি আয়িশা (রাঃ) কে তানঈম নামক স্থানে নিয়ে যান এবং তিনি সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে উমরা করেন।
সহীহ, তবে এ কথাটি বাদে : “… من شاء أن يجعلها عمرة”। সঠিক হলো : “اجعلوها عمرة ” : মুসলিম। [যা সামনে আসছে এ গ্রন্থের হা/১৭৮৮।]
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৭৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-এর হজ্জের সময়ের ঘটনা এসেছে। তিনি সারিফ নামক স্থানে হায়েয অবস্থায় পড়ে যান এবং কাঁদতে থাকেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, এটি আদমের কন্যাদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত বিষয়। তাই এতে হতাশ হওয়ার দরকার নেই। তিনি আয়িশা (রাঃ)-কে নির্দেশ দেন, বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের অন্যান্য সব কাজ করতে। এতে বোঝা যায়, হায়েয অবস্থায় হজ্জ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না; শুধু তাওয়াফের ক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হয়। পরে পবিত্র হওয়ার পর আয়িশা (রাঃ) তানঈম থেকে উমরা করেন। এই হাদিস হায়েয অবস্থায় হজ্জের নিয়ম, তাওয়াফের বিধান এবং নারীদের জন্য সহজতার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েয নারীদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত স্বাভাবিক বিষয়।
- হায়েয অবস্থায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা যাবে না।
- তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের অন্যান্য কাজ করা যেতে পারে।
- প্রয়োজন হলে পবিত্র হওয়ার পর তানঈম থেকে উমরা করা হয়েছে।
