১১/২৪. অধ্যায়ঃ
হজ্জে কিরান
হজ্জে তামাত্তু ও হায়েয অবস্থার করণীয়
সুনানে আবূ দাউদ : ১৭৮১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৭৮১
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيُهِلَّ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ لاَ يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا " . فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ وَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " انْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ " . قَالَتْ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْنَا الْحَجَّ أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرْتُ فَقَالَ " هَذِهِ مَكَانَ عُمْرَتِكِ " . قَالَتْ فَطَافَ الَّذِينَ أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حَلُّوا ثُمَّ طَافُوا طَوَافًا آخَرَ بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى لِحَجِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَانُوا جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَإِنَّمَا طَافُوا طَوَافًا وَاحِدًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ وَمَعْمَرٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ نَحْوَهُ لَمْ يَذْكُرُوا طَوَافَ الَّذِينَ أَهَلُّوا بِعُمْرَةٍ وَطَوَافَ الَّذِينَ جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ .
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিদায় হজ্জের সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা উমরার ইহরাম বাঁধলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যাদের সাথে কুরবানির পশু আছে তারা যেন উমরার সাথে হজ্জের ইহরাম বাঁধে এবং উভয়টির যাবতীয় অনুষ্ঠানাদি শেষ না করা পর্যন্ত ইহরাম না খোলে।আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি হায়িয অবস্থায় মক্কায় উপস্থিত হলাম। সুতরাং আমি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়াতে সাঈ করলাম না। আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অবহিত করলে তিনি বললেনঃ চুলের খোপা খুলে ফেলো, মাথায় চিরুনি করো, উমরার নিয়্যাত বর্জন করে কেবল হজ্জের ইহরাম বাঁধো। সুতরাং আমি তাই করলাম।অতঃপর আমাদের হজ্জ সমাপ্ত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর-এর সাথে তানঈমে প্রেরণ করলেন এবং আমি সেখান থেকে উমরা করলাম। তিনি বললেনঃ এটা তোমার পূর্বের উমরার পরিপূরক।আয়িশা (রাঃ) বলেন, যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছিল তারা মক্কায় পৌঁছে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেলে। তারপর মিনা থেকে ফিরে এসে হজ্জের জন্য আরেকবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করে। আর যারা হজ্জ ও উমরা একত্রে আদায় করেছে তারা শুধুমাত্র একবার তাওয়াফ করেছে।ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, ইব্রাহীম ইবনু সাদ এবং মা'মার (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে এতে “যারা শুধু উমরার ইহরাম বেঁধেছিল এবং যারা হজ্জ ও উমরাহ উভয়টির ইহরাম বেঁধেছে তাদের তাওয়াফের কথা” বর্ণিত হয়নি।
সহীহ।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৭৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিদায় হজ্জের সময় হজ্জ, উমরা, কুরবানির পশু এবং হায়েয অবস্থায় করণীয় বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যার সাথে কুরবানির পশু আছে সে উমরার সাথে হজ্জের ইহরাম বাঁধবে এবং হজ্জ ও উমরা দুটির কাজ শেষ না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলবে না। আয়িশা (রাঃ) মক্কায় পৌঁছে হায়েয অবস্থায় ছিলেন, তাই তিনি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করেননি। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে উমরার নিয়ত ছেড়ে হজ্জের ইহরাম বাঁধতে বলেন। পরে হজ্জ শেষ হলে তাকে তানঈম থেকে উমরা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এই বর্ণনা থেকে হজ্জে তামাত্তু, কিরান হজ্জ, উমরা পূরণ এবং হায়েয অবস্থায় তাওয়াফ না করার বিষয় পরিষ্কার হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যার সাথে কুরবানির পশু থাকে, সে হজ্জ ও উমরা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইহরাম খুলবে না।
- হায়েয অবস্থায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করা থেকে বিরত থাকতে হয়।
- হজ্জের কাজ শেষ হলে অপূর্ণ উমরার বদলে তানঈম থেকে উমরা করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
- হজ্জ ও উমরা একত্রে আদায়কারীর তাওয়াফের বিষয় আলাদা হতে পারে।
