১১/২২. অধ্যায়ঃ
হজ্জের মধ্যে শর্ত যোগ করা প্রসঙ্গে
ইহরাম বাঁধার সময় ও তালবিয়ার ব্যাখ্যা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৭৭০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৭৭০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي خُصَيْفُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَزَرِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ يَا أَبَا الْعَبَّاسِ عَجِبْتُ لاِخْتِلاَفِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي إِهْلاَلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَوْجَبَ . فَقَالَ إِنِّي لأَعْلَمُ النَّاسِ بِذَلِكَ إِنَّهَا إِنَّمَا كَانَتْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَجَّةٌ وَاحِدَةٌ فَمِنْ هُنَاكَ اخْتَلَفُوا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَاجًّا فَلَمَّا صَلَّى فِي مَسْجِدِهِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْهِ أَوْجَبَ فِي مَجْلِسِهِ فَأَهَلَّ بِالْحَجِّ حِينَ فَرَغَ مِنْ رَكْعَتَيْهِ فَسَمِعَ ذَلِكَ مِنْهُ أَقْوَامٌ فَحَفِظْتُهُ عَنْهُ ثُمَّ رَكِبَ فَلَمَّا اسْتَقَلَّتْ بِهِ نَاقَتُهُ أَهَلَّ وَأَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْهُ أَقْوَامٌ وَذَلِكَ أَنَّ النَّاسَ إِنَّمَا كَانُوا يَأْتُونَ أَرْسَالاً فَسَمِعُوهُ حِينَ اسْتَقَلَّتْ بِهِ نَاقَتُهُ يُهِلُّ فَقَالُوا إِنَّمَا أَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ اسْتَقَلَّتْ بِهِ نَاقَتُهُ ثُمَّ مَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا عَلاَ عَلَى شَرَفِ الْبَيْدَاءِ أَهَلَّ وَأَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْهُ أَقْوَامٌ فَقَالُوا إِنَّمَا أَهَلَّ حِينَ عَلاَ عَلَى شَرَفِ الْبَيْدَاءِ وَايْمُ اللَّهِ لَقَدْ أَوْجَبَ فِي مُصَلاَّهُ وَأَهَلَّ حِينَ اسْتَقَلَّتْ بِهِ نَاقَتُهُ وَأَهَلَّ حِينَ عَلاَ عَلَى شَرَفِ الْبَيْدَاءِ . قَالَ سَعِيدٌ فَمَنْ أَخَذَ بِقَوْلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَهَلَّ فِي مُصَلاَّهُ إِذَا فَرَغَ مِنْ رَكْعَتَيْهِ .
সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, “হে আবুল আব্বাস! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইহরাম বাঁধার মুহূর্ত বিষয়ে যে মতভেদ করছেন তাতে আমি স্তম্ভিত।”ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, “আমি এ বিষয়ে অন্যদের চেয়ে অধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুধু একবারই হজ্জ করেছেন, আর এটাই তাঁদের মতভেদের মূল উৎস। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। তিনি যুল-হুলাইফাতে তাঁর মসজিদে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং ঐ বসাবস্থায় দুই রাকাত শেষ করেই নিজের জন্য হজ্জ ফরজ করে নিয়ে ‘তালবিয়া’ পাঠ করলেন। সুতরাং এখানে কিছু লোক তাঁকে ‘তালবিয়া’ পড়তে শুনে তাঁরা তাই স্মরণ রেখেছে।অতঃপর তিনি আরোহণ করলেন এবং উট তাঁকে পিঠে তুলে নিয়ে দাঁড়ানোর সময়ও তিনি ‘তালবিয়া’ পড়লেন। সুতরাং আরও কিছু লোক এখানে তাঁকে ‘তালবিয়া’ পড়তে শুনলো। বস্তুত লোকজন পৃথক পৃথকভাবে দলে দলে আসছিলো। আর তারা তখন তাঁকে তালবিয়া পাঠ করতে শুনলো যখন তিনি উটের পিঠে আরোহিত অবস্থায় তালবিয়া পড়লেন। ফলে তারা একথাই বললো যে, উট তাঁকে তাঁর পিঠে তোলার সময় তিনি তালবিয়া পড়েছেন।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্মুখে অগ্রসর হলেন। এবার তিনি ‘আল-বায়দা’ উচ্চভূমিতে চড়লেন এবং এখানেও ‘তালবিয়া’ পড়লেন। কিছু লোক তাঁকে এখানে ‘তালবিয়া’ পড়তে শুনে তারা বললো, তিনি তখনই ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পড়েছেন এবং পরে উটের পিঠে ও আল-বায়দা উচ্চভূমিতে, সর্বত্র সর্বাবস্থায় তালবিয়া পড়েছিলেন।”অতঃপর সাঈদ ইবন জুবাইর (রাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি ইবন আব্বাসের বর্ণনানুসারে কাজ করে, সে যেন দুই রাকাত সালাত শেষে স্বীয় মুসাল্লাতেই ইহরাম বাঁধে।”
দুর্বল : যঈফ সুনান তিরমিযী (৮২৫/১৩৫) সংক্ষিপ্তভাবে এ শব্দে ‘নবী (ﷺ) প্রত্যেক সলাতের পর তালবিয়া পড়তেন।’ অনুরূপ যঈফ সুনান নাসায়ী (২৭৫৪/১৭৫)।[১৭৭০] আহমাদ। সানাদের খুসাইফ ইবনু আবদুর রহমান সম্পর্কে হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেন : স্মরণশক্তি ভাল নয়, তিনি শেষ বয়সে হাদীসের সংমিশ্রণ করতেন এবং তার ব্যাপারে মুরজিয়া হওয়ার আরোপ রয়েছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৭৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইহরাম বাঁধার সময় নিয়ে সাহাবীদের ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একবারই হজ্জ করেছেন, আর লোকেরা তাঁকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তালবিয়া পড়তে শুনেছে। তিনি যুল-হুলাইফার মসজিদে দুই রাকাত সালাত শেষ করে বসা অবস্থায় হজ্জের ইহরাম নেন ও তালবিয়া পড়েন। এরপর সাওয়ারিতে ওঠার সময়ও তালবিয়া পড়েন। আবার আল-বায়দা উচ্চভূমিতে উঠেও তালবিয়া পড়েন। ফলে যে দল যেখানে শুনেছে, তারা সেই সময়কেই মূল সময় মনে করেছে। এই হাদিসে ইহরাম, তালবিয়া এবং বর্ণনা বোঝার ক্ষেত্রে ধৈর্য ও পূর্ণ তথ্যের গুরুত্ব ফুটে ওঠে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই ঘটনার বিভিন্ন অংশ শুনে ভিন্ন বর্ণনা হতে পারে।
- ইবনু আব্বাস (রাঃ) ইহরামের সময় নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
- দুই রাকাত সালাত শেষে মুসাল্লায় ইহরাম নেওয়ার কথা এসেছে।
- হাদিস বোঝার সময় সব বর্ণনা মিলিয়ে দেখা দরকার।
