৯/২০. অধ্যায়ঃ
সদাকাতুল ফিতর কত পরিমাণ দিতে হবে?
এক সা’ ফিতরা: রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগের আমল
সুনানে আবূ দাউদ : ১৬১৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৬১৬
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، - يَعْنِي ابْنَ قَيْسٍ - عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُخْرِجُ إِذْ كَانَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ عَنْ كُلِّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ مَمْلُوكٍ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ فَلَمْ نَزَلْ نُخْرِجُهُ حَتَّى قَدِمَ مُعَاوِيَةُ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا فَكَلَّمَ النَّاسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَانَ فِيمَا كَلَّمَ بِهِ النَّاسَ أَنْ قَالَ إِنِّي أَرَى أَنَّ مُدَّيْنِ مِنْ سَمْرَاءِ الشَّامِ تَعْدِلُ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ فَأَخَذَ النَّاسُ بِذَلِكَ . فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَمَّا أَنَا فَلاَ أَزَالُ أُخْرِجُهُ أَبَدًا مَا عِشْتُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ عُلَيَّةَ وَعَبْدَةُ وَغَيْرُهُمَا عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ عَنْ عِيَاضٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ بِمَعْنَاهُ وَذَكَرَ رَجُلٌ وَاحِدٌ فِيهِ عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ أَوْ صَاعَ حِنْطَةٍ . وَلَيْسَ بِمَحْفُوظٍ .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যতদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে ছিলেন, আমরা ফিতরা দিতাম—প্রত্যেক ছোট, বড়, স্বাধীন ও গোলামের পক্ষ হতে মাথাপিছু এক সা‘ খাদ্য, এক সা‘ পনির অথবা এক সা‘ যব অথবা এক সা‘ খেজুর অথবা এক সা‘ কিসমিস। আমরা এ নিয়মেই ফিতরা দিয়ে আসছিলাম। অবশেষে মুয়াবিয়া (রাঃ) হজ্জ কিংবা উমরা করতে এসে মিম্বারের আরোহন করে ভাষণ দানকালে লোকদেরকে বললেন, আমার মতে সিরিয়ার দুই মুদ্দ গম এক সা‘ খেজুরের সমান। ফলে লোকেরা তাই গ্রহণ করলো। কিন্তু আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমি যতদিন বেঁচে থাকি সর্বদা এক সা‘ ফিতরা-ই দিব।
সহীহঃ মুসলিম।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগের ফিতরার পরিমাণ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের মাঝে থাকা অবস্থায় ছোট, বড়, স্বাধীন ও গোলামের পক্ষ থেকে মাথাপিছু এক সা’ খাদ্য, পনির, যব, খেজুর বা কিসমিস দেওয়া হতো। পরে মুয়াবিয়া (রাঃ) হজ্জ বা উমরায় এসে মানুষের সামনে বলেন, সিরিয়ার দুই মুদ্দ গম এক সা’ খেজুরের সমান বলে তাঁর মত। মানুষ তা গ্রহণ করে। কিন্তু আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন এক সা’ ফিতরাই দেবেন। এই হাদিসে এক সা’ ফিতরা, খাদ্যের ধরন এবং সাহাবির আমলের ধারাবাহিকতা স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে এক সা’ খাদ্য দিয়ে ফিতরা দেওয়ার কথা এসেছে।
- ছোট, বড়, স্বাধীন ও গোলামের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়া হতো।
- খাদ্য, পনির, যব, খেজুর ও কিসমিসের কথা বর্ণনায় আছে।
- আবু সাঈদ (রাঃ) এক সা’ ফিতরার আমল ধরে রাখার কথা বলেছেন।
