৫/১০. অধ্যায়ঃ
সূর্য উপরে থাকতে দুই রাকাত সালাতের অনুমতি
নফল সালাতের সময়: কখন পড়বেন, কখন বিরত থাকবেন
সুনানে আবু দাউদ : ১২৭৭
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ১২৭৭
حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ السُّلَمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ اللَّيْلِ أَسْمَعُ قَالَ " جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَصَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَكْتُوبَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الصُّبْحَ ثُمَّ أَقْصِرْ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَتَرْتَفِعَ قِيْسَ رُمْحٍ أَوْ رُمْحَيْنِ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَتُصَلِّي لَهَا الْكُفَّارُ ثُمَّ صَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَكْتُوبَةٌ حَتَّى يَعْدِلَ الرُّمْحُ ظِلَّهُ ثُمَّ أَقْصِرْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ تُسْجَرُ وَتُفْتَحُ أَبْوَابُهَا فَإِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ فَصَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ ثُمَّ أَقْصِرْ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَيُصَلِّي لَهَا الْكُفَّارُ " . وَقَصَّ حَدِيثًا طَوِيلاً قَالَ الْعَبَّاسُ هَكَذَا حَدَّثَنِي أَبُو سَلاَّمٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ إِلاَّ أَنْ أُخْطِئَ شَيْئًا لاَ أُرِيدُهُ فَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ .
‘আমর ইবনু আনবাসাহ আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! রাতের কোন অংশ অধিক শ্রবণীয় (অর্থাৎ আল্লাহ দোয়া বেশি কবুল করেন)? তিনি বলেন: রাতের শেষাংশ, এ সময় যতটুকু ইচ্ছা সালাত আদায় করবে। কেননা এ সময়ে ফেরেশতাগণ এসে ফজরের সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকেন এবং লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর সূর্য উঠা পর্যন্ত সালাত হতে বিরত থাকবে, যতক্ষণ না তা এক কিংবা দুই তীর পরিমাণ উপরে উঠে। কারণ সূর্য উদিত হয় শাইতানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে। আর কাফিররা এ সময় তার পূজা করে থাকে। এরপর তীরের ছায়া ঠিক থাকা (দ্বিপ্রহরের পূর্বে) পর্যন্ত যত ইচ্ছা সালাত আদায় করবে, এ সময়ের সালাত সম্পর্কে ফেরেশতাগণ সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর সালাত হতে বিরত থাকবে, কেননা এ সময় জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয় এবং তার সমস্ত দরজা খুলে দেয়া হয়। যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়বে তখন যত ইচ্ছা সালাত আদায় করবে, কেননা আসরের সালাত পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যকার সালাত সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়া হয়। অতঃপর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সালাত হতে বিরত থাকবে, কেননা তা শাইতানের দুই শিংয়ের মধ্যে দিয়ে অস্ত যায় এবং এ সময় কাফিররা তার উপাসনা করে থাকে। অতঃপর বর্ণনাকারী এ বিষয়ে দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। আল-‘আব্বাস (রহঃ) বলেন, আবু উমামা (রাঃ) হতে আবু সাল্লাম (রহঃ) আমার কাছে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে আমি অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল করেছি, সেজন্যে আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁরই কাছে তওবা করি।
সহীহঃ মুসলিম এ বাক্য বাদে জাওফুল লাইল।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ১২৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে নফল সালাতের সময় সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা এসেছে। প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাতের কোন অংশ বেশি শ্রবণীয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, রাতের শেষাংশ। এ সময়ে যত ইচ্ছা সালাত আদায় করতে বলা হয়েছে এবং ফজরের সালাত পর্যন্ত ফেরেশতাদের উপস্থিতি ও লিপিবদ্ধ করার কথা এসেছে। এরপর সূর্য উঠা এবং এক বা দুই তীর পরিমাণ উপরে ওঠা পর্যন্ত বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পরে দ্বিপ্রহরের আগে পর্যন্ত সালাতের অনুমতি এসেছে। যখন সূর্য ঠিক মাথার ওপরের দিকে থাকে, তখন বিরত থাকার কথা এসেছে। সূর্য পশ্চিমে হেলে গেলে আসর পর্যন্ত সালাতের সুযোগ আছে। এরপর সূর্য ডোবা পর্যন্ত বিরত থাকার নির্দেশ আছে। হাদিসটি সালাতের সময় বুঝতে একটি ধারাবাহিক নির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের শেষাংশে সালাতের বিশেষ গুরুত্ব এই বর্ণনায় এসেছে।
- সূর্য ওঠা, মাঝ আকাশে থাকা ও ডোবার সময় সালাত থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
- দিনের বিভিন্ন সময়ে নফল সালাতের সুযোগ ও সীমা দুটোই আছে।
