৩/৩. অধ্যায়ঃ
ইসতিসকার সালাতে দুই হাত উত্তোলন সম্পর্কে
বৃষ্টির জন্য কল্যাণময় দোয়া: উপকারী ও ক্ষতিমুক্ত বৃষ্টি চাওয়া
সুনানে আবু দাউদ : ১১৬৯
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ১১৬৯
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ يَزِيدَ الْفَقِيرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَوَاكِي فَقَالَ " اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا مَرِيعاً نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ " . قَالَ فَأَطْبَقَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা নবী (ﷺ)-এর কাছে কতিপয় লোক (বৃষ্টি না হওয়ায়) ক্রন্দনরত অবস্থায় এলে তিনি দোয়া করলেনঃ “আল্লাহুম্মাসকিনা গাইছান মুগিছান মারীয়ান মারিয়ান নাফিয়া গাইরা দাররিন আজিলান গাইরা আজিল।” (অর্থঃ) হে আল্লাহ! আমাদেরকে বিলম্বে নয় বরং তাড়াতাড়ি ক্ষতিমুক্ত-কল্যাণময়, তৃপ্তিদায়ক, সজীবতা দানকারী, মুষল ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তাদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায় (এবং বৃষ্টি হয়)।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ১১৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, কিছু মানুষ বৃষ্টি না হওয়ায় কাঁদতে কাঁদতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসে। তখন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন: হে আল্লাহ, আমাদেরকে বিলম্বে নয়, তাড়াতাড়ি এমন বৃষ্টি দিন যা উপকারী, ক্ষতিমুক্ত, তৃপ্তিদায়ক ও সজীবতা দানকারী। বর্ণনাকারী জানান, এরপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং বৃষ্টি হয়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, বৃষ্টির জন্য দোয়া শুধু বৃষ্টি চাওয়া নয়; বরং উপকারী, নিরাপদ ও কল্যাণময় বৃষ্টি চাওয়া। অনাবৃষ্টি, কষ্ট ও প্রয়োজনের সময় মানুষের উচিত আল্লাহর কাছে বিনয়ের সাথে দোয়া করা। বৃষ্টির দোয়ার বাংলা অর্থ বুঝে পড়লে দোয়ার ভাব আরও পরিষ্কার হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অনাবৃষ্টির কষ্টে আল্লাহর কাছে দোয়া করা নববী শিক্ষা।
- বৃষ্টি চাওয়ার সময় উপকারী ও ক্ষতিমুক্ত বৃষ্টি চাওয়া উচিত।
- দোয়ায় দ্রুত সাহায্য চাওয়া এসেছে, তবে সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।
- মানুষের অভাব ও কান্না আল্লাহর কাছে ফেরার একটি কারণ হতে পারে।
