জান্নাতে প্রবেশের উপায়

মোট হাদিস ০২

জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৬০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَقَالَ ‏ "‏ إِنِّي رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ جِبْرِيلَ عِنْدَ رَأْسِي وَمِيكَائِيلَ عِنْدَ رِجْلَىَّ يَقُولُ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ اضْرِبْ لَهُ مَثَلاً ‏.‏ فَقَالَ اسْمَعْ سَمِعَتْ أُذُنُكَ وَاعْقِلْ عَقَلَ قَلْبُكَ إِنَّمَا مَثَلُكَ وَمَثَلُ أُمَّتِكَ كَمَثَلِ مَلِكٍ اتَّخَذَ دَارًا ثُمَّ بَنَى فِيهَا بَيْتًا ثُمَّ جَعَلَ فِيهَا مَائِدَةً ثُمَّ بَعَثَ رَسُولاً يَدْعُو النَّاسَ إِلَى طَعَامِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَجَابَ الرَّسُولَ وَمِنْهُمْ مَنْ تَرَكَهُ فَاللَّهُ هُوَ الْمَلِكُ وَالدَّارُ الإِسْلاَمُ وَالْبَيْتُ الْجَنَّةُ وَأَنْتَ يَا مُحَمَّدُ رَسُولٌ فَمَنْ أَجَابَكَ دَخَلَ الإِسْلاَمَ وَمَنْ دَخَلَ الإِسْلاَمَ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ دَخَلَ الْجَنَّةَ أَكَلَ مَا فِيهَا ‏"‏ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِإِسْنَادٍ أَصَحَّ مِنْ هَذَا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُرْسَلٌ ‏.‏ سَعِيدُ بْنُ أَبِي هِلاَلٍ لَمْ يُدْرِكْ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ ‏.

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল-আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে আমাদের নিকটে এসে বলেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম, জিবরাঈল (আঃ) যেন আমার মাথার দিকে এবং মীকাঈল (আঃ) আমার পাদুটির দিকে আছেন। তাঁদের একজন তাঁর সঙ্গীকে বলছেন, তাঁর কোন উদাহরণ দিন। তাহলে শুনুন। আপনার কান যেন শুনে এবং আপনার অন্তর যেন হৃদয়ঙ্গম করে।আপনার ও আপনার উম্মতের তুলনা এই যে, কোন বাদশাহ একটি রাজমহল তৈরী করলেন এবং তাতে একটি ঘর তৈরি করলেন, তারপর তাতে রকমারি খানা ভর্তি খাঞ্চা রাখলেন। তারপর তিনি একজন আহ্বানকারীকে পাঠালেন লোকদেরকে খাবারের জন্য দাওয়াত দিতে। একদল লোক তার ডাকে সাড়া দিল এবং অন্য দল তা পরিত্যাগ করল।আল্লাহ তাআলা হলেন সেই বাদশাহ, মহলটি হল ইসলাম, ঘরটি হল জান্নাত। আর হে মুহাম্মদ! আপনি সেই আহ্বানকারী।(১) যে ব্যক্তি আপনার ডাকে সাড়া দিল সে ইসলামে প্রবেশ করল,(২) আর যে ইসলামে প্রবেশ করল সে জান্নাতে গেল।(৩) যে জান্নাতে যাবে সে তাতে যা আছে তা খাবে।

সনদ দুর্বল। উপরোক্ত হাদীস রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অন্যভাবে আরো সহীহ সনদসূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি মুরসাল। সাঈদ ইবনু আবূ হিলাল জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) এর দেখা পাননি। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ثُمَّ انْصَرَفَ فَأَخَذَ بِيَدِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ حَتَّى خَرَجَ بِهِ إِلَى بَطْحَاءِ مَكَّةَ فَأَجْلَسَهُ ثُمَّ خَطَّ عَلَيْهِ خَطًّا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ لاَ تَبْرَحَنَّ خَطَّكَ فَإِنَّهُ سَيَنْتَهِي إِلَيْكَ رِجَالٌ فَلاَ تُكَلِّمْهُمْ فَإِنَّهُمْ لاَ يُكَلِّمُونَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَيْثُ أَرَادَ فَبَيْنَا أَنَا جَالِسٌ فِي خَطِّي إِذْ أَتَانِي رِجَالٌ كَأَنَّهُمُ الزُّطُّ أَشْعَارُهُمْ وَأَجْسَامُهُمْ لاَ أَرَى عَوْرَةً وَلاَ أَرَى قِشْرًا وَيَنْتَهُونَ إِلَىَّ لاَ يُجَاوِزُونَ الْخَطَّ ثُمَّ يَصْدُرُونَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ لَكِنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ جَاءَنِي وَأَنَا جَالِسٌ فَقَالَ ‏"‏ لَقَدْ أَرَانِي مُنْذُ اللَّيْلَةَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ دَخَلَ عَلَىَّ فِي خَطِّي فَتَوَسَّدَ فَخِذِي فَرَقَدَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَقَدَ نَفَخَ فَبَيْنَا أَنَا قَاعِدٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَوَسِّدٌ فَخِذِي إِذَا أَنَا بِرِجَالٍ عَلَيْهِمْ ثِيَابٌ بِيضٌ اللَّهُ أَعْلَمُ مَا بِهِمْ مِنَ الْجَمَالِ فَانْتَهَوْا إِلَىَّ فَجَلَسَ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَطَائِفَةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ رِجْلَيْهِ ثُمَّ قَالُوا بَيْنَهُمْ مَا رَأَيْنَا عَبْدًا قَطُّ أُوتِيَ مِثْلَ مَا أُوتِيَ هَذَا النَّبِيُّ إِنَّ عَيْنَيْهِ تَنَامَانِ وَقَلْبُهُ يَقْظَانُ اضْرِبُوا لَهُ مَثَلاً مَثَلُ سَيِّدٍ بَنَى قَصْرًا ثُمَّ جَعَلَ مَأْدُبَةً فَدَعَا النَّاسَ إِلَى طَعَامِهِ وَشَرَابِهِ فَمَنْ أَجَابَهُ أَكَلَ مِنْ طَعَامِهِ وَشَرِبَ مِنْ شَرَابِهِ وَمَنْ لَمْ يُجِبْهُ عَاقَبَهُ أَوْ قَالَ عَذَّبَهُ - ثُمَّ ارْتَفَعُوا وَاسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ فَقَالَ ‏"‏ سَمِعْتَ مَا قَالَ هَؤُلاَءِ وَهَلْ تَدْرِي مَنْ هَؤُلاَءِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ هُمُ الْمَلاَئِكَةُ أَفَتَدْرِي مَا الْمَثَلُ الَّذِي ضَرَبُوا ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ الْمَثَلُ الَّذِي ضَرَبُوا الرَّحْمَنُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى بَنَى الْجَنَّةَ وَدَعَا إِلَيْهَا عِبَادَهُ فَمَنْ أَجَابَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يُجِبْهُ عَاقَبَهُ أَوْ عَذَّبَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَأَبُو تَمِيمَةَ هُوَ الْهُجَيْمِيُّ وَاسْمُهُ طَرِيفُ بْنُ مُجَالِدٍ وَأَبُو عُثْمَانَ النَّهْدِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُلٍّ وَسُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ قَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنْهُ مُعْتَمِرٌ وَهُوَ سُلَيْمَانُ بْنُ طَرْخَانَ وَلَمْ يَكُنْ تَيْمِيًّا وَإِنَّمَا كَانَ يَنْزِلُ بَنِي تَيْمٍ فَنُسِبَ إِلَيْهِمْ ‏.‏ قَالَ عَلِيٌّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ مَا رَأَيْتُ أَخْوَفَ لِلَّهِ تَعَالَى مِنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ ‏.

ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক রাতে এশার নামাজ আদায় করে বের হলেন। তারপর আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে হাত ধরে মক্কার কংকরময় স্থান বাতহায় নিয়ে গেলেন এবং সেখানে তাকে বসালেন। তিনি তার চতুর্দিকে একটি বৃত্তরেখা টানলেন এবং বললেনঃ তুমি এ রেখা হতে সরবে না। কয়েকজন লোক তোমার সামনে পর্যন্ত আসবে। তুমি তাদের সাথে কোন কথা বলবে না। তারাও তোমার সাথে কথা বলবে না। এই বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেদিকে ইচ্ছা চলে গেলেন। আমি আমার বৃত্তের মধ্যে বসা। হঠাৎ কয়েকজন লোক আসল। তাদের চুল ও শারীরিক অবস্থা দেখে মনে হল যেন তারা জাঠ সম্প্রদায়ের। তাদের উলঙ্গও দেখা যাচ্ছিল না আবার পোশাক পরিহিতও মনে হচ্ছিল না। তারা আমার নিকটই এগিয়ে এলো কিন্তু বৃত্তরেখা অতিক্রম করলো না। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খোঁজে বেরিয়ে গেল। শেষ রাত পর্যন্ত তারা আর ফিরে এলো না। আমি তখনও বসা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে এসে বললেনঃ আমি আজ সন্ধ্যারাত থেকেই ঘুমাতে পারিনি। তিনি বৃত্তের মধ্যে প্রবেশ করলেন এবং আমার উরুর উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমানোর সময় তার নাক ডাকতো। আমি বসে থাকলাম আর তিনি আমার উরুতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে রইলেন।হঠাৎ আমি সাদা পোশাক পরিহিত কয়েকজন লোককে দেখতে পেলাম। তাদেরকে কত যে সুন্দর দেখা যাচ্ছিল সেটা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। তারা আমার নিকট এলো এবং তাদের মাঝে একদল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাথার নিকট, আরেক দল তার পদদ্বয়ের নিকট বসে পড়লো। তারপর তারা পরস্পর বলাবলি করলো, এ নবীকে যা দেয়া হয়েছে আর কাউকে এমন দিতে দেখিনি। তার চোখ দুটো ঘুমিয়ে থাকলেও তার অন্তর জাগ্রত থাকে। তোমরা তার একটা উপমা বর্ণনা কর। (উদাহরণ) এক নেতা একটি প্রাসাদ নির্মাণ করলেন, তারপর মেহমানদারির আয়োজন করে লোকদেরকে পানাহারের জন্য দা'ওয়াত করলেন। যে সব ব্যক্তি তার দা’ওয়াত গ্রহণ করলো তারা মেহমানীর খাবার ও পানীয় গ্রহণ করলো, আর যে সব ব্যক্তি দা’ওয়াত গ্রহণ করেনি তিনি তাদেরকে শাস্তি দিলেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিলেন। এই বলে তারা উঠে চলে গেল।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জেগে উঠলেন। তিনি বললেনঃ এরা যা বলেছে তুমি কি তা শুনেছ? তুমি কি জানো, এরা কারা? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তিনি বললেনঃ এরা হল ফেরেশতা। এরা যে উপমা বর্ণনা করলো তা কি জান? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ তারা যে উপমা দিল, তার অর্থ হল: আল্লাহ তাআলা জান্নাত বানালেন এবং তাঁর বান্দাদেরকে সেদিকে আহ্বান করলেন।(১) যে সব ব্যক্তি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে,(২) আর যে সব ব্যক্তি সাড়া দেয়নি তাদেরকে আল্লাহ তাআলা শাস্তি দিবেন।

আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং এ সূত্রে । আবু তামীমা হুজাইমী গোত্রের লোক। তার নাম তারীফ ইবনু মুজালিদ। আবু উসমান আন-নাহদীর নাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু মাল্ল (মুল্ল, মিল্ল)। সুলাইমান আত-তাইনী হলেন তারখানের ছেলে। মু’তামারও তার নিকট হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান তাইমী গোত্রের লোক নন কিন্তু তিনি তাইম গোত্রে অবস্থান করতেন বলে তাদের সাথে যুক্ত করে তাকে তাইমী বলা হয়। আলী বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ বলেছেন, আমি সুলাইমান আত-তাইনীর চাইতে আল্লাহ তা'আলাকে বেশি ভয় করতে আর কাউকে দেখিনি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন