৭/১৫৫. অধ্যায়ঃ
জানাযার নামায পড়া, জানাযার সাথে যাওয়া, তাকে কবরস্থ করার কাজে অংশ নেওয়ার মাহাত্ম্য এবং জানাযার সাথে মহিলাদের যাওয়া নিষেধ
ঈমান ও সওয়াবের আশায় জানাযার সঙ্গে যাওয়ার ফজিলত
রিয়াদুস সালেহীন : ২/৯৩৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৯৩৫
وَعَنْه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ إِيمَاناً وَاحْتِسَاباً، وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا وَيُفرَغَ مِنْ دَفْنِهَا، فَإنَّهُ يَرْجِعُ مِنَ الأَجْرِ بِقيراطَيْنِ كُلُّ قِيرَاطٍ مِثْلُ أُحُدٍ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا، ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أنْ تُدْفَنَ، فَإنَّهُ يَرْجِعُ بِقيرَاطٍ . رواه البخاري
উক্ত রাবী হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি (আল্লাহর প্রতি) বিশ্বাস রেখে এবং নেকীর আশা রেখে কোনো মুসলিমের জানাযার সাথে যাবে এবং তার জানাযার নামায পড়া এবং তাকে দাফন করা পর্যন্ত তার সাথে থাকবে, সে দু’ ক্বীরাত্ব সওয়াব নিয়ে (বাড়ি) ফিরবে। এক ক্বীরাত উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি জানাযার নামায পড়ে মৃতকে সমাধিস্থ করার পূর্বেই ফিরে আসবে, সে এক কীরাত্ব সওয়াব নিয়ে (বাড়ি) ফিরবে।’’ (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ৪৭, ১৩২৪, ১৩২৫, মুসলিম ৯৪৫, তিরমিযী ১০৪০, নাসায়ী ১৯৯৪, থেকে ১৯৯৭, ৫০৩২, আবূ দাউদ ৩১৬৮, ইবনু মাজাহ ১৫৩৯, আহমাদ ৪৪৩৯, ৭১৪৮, ৭৩০৬, ৭৬৩৩, ৭৭১৮, ৮০৬৬, ৮৭৮৯, ১০৪৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৯৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জানাযার সঙ্গে যাওয়ার ফজিলত আরও পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান রেখে এবং নেকীর আশা রেখে কোনো মুসলিমের জানাযার সঙ্গে যাবে, জানাযার নামাজ পড়বে এবং দাফন শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকবে, সে দুই কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে। এক কীরাত উহুদ পাহাড়ের সমান বলা হয়েছে। আর যে জানাযার নামাজ পড়ে দাফনের আগে ফিরে আসে, সে এক কীরাত সওয়াব পাবে। এখানে মূল বিষয় শুধু উপস্থিতি নয়; ‘ঈমান’ ও ‘সওয়াবের আশা’ও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই জানাযায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি, লোক দেখানো নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জানাযায় অংশ নেওয়ার নিয়ত হওয়া উচিত ঈমান ও সওয়াবের আশা।
- নামাজ ও দাফন পর্যন্ত থাকা দুই কীরাত সওয়াবের কারণ হিসেবে এসেছে।
- দাফনের আগে ফিরে এলেও জানাযার নামাজের সওয়াব আছে।
