৭/১৫৩. অধ্যায়ঃ
মৃতের জন্য মাতমবিহীন কান্না বৈধ
মাতম করা হারাম। (এ বিষয়ে নিষিদ্ধ বস্তু অধ্যায়ে এক পরিচ্ছেদ আসবে ইন-শাআল্লাহু তা’আলা।) কাঁদা নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে বহু হাদীস এসেছে। আর যে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, ’’মৃতকে তার পরিবার-পরিজনদের কাঁদার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়’’ তার অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি কাঁদার অসিয়ত করে মারা যাবে। পক্ষান্তরে কেবলমাত্র সেই কান্না নিষিদ্ধ, যাতে মৃতের প্রশংসা করা হয় অথবা মাতম করা হয়। আর প্রশংসা ও মাতমবিহীন কান্নার বৈধতার ব্যাপারেও বহু হাদীস রয়েছে; তার কিছু নিম্নরূপঃ-
ইব্রাহীমের মৃত্যুতে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কান্না ও ধৈর্যের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৯৩২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৯৩২
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى ابْنِهِ إبْرَاهيمَ رضي الله عنه، وَهُوَ يَجُودُ بِنَفسِهِ، فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَذْرِفَانِ . فَقَالَ لَهُ عَبدُ الرَّحمَانِ بنُ عَوفٍ: وَأَنتَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟! فَقَالَ: « يَا ابْنَ عَوْفٍ إنَّهَا رَحْمَةٌ» ثُمَّ أَتْبَعَهَا بأُخْرَى، فَقَالَ: « إنَّ العَيْنَ تَدْمَعُ والقَلبُ يَحْزنُ، وَلاَ نَقُولُ إِلاَّ مَا يُرْضِي رَبَّنَا، وَإِنَّا لِفِرَاقِكَ يَا إِبرَاهِيمُ لَمَحزُونُونَ ». رواه البخاري، وروى مسلم بعضه.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের নিকট গেলেন, যখন সে মারা যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রুপাত হতে লাগল। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তাঁকে বললেন, ’আপনিও (কাঁদছেন)? হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি (ﷺ) বললেন, ’’হে আওফের পুত্র! এটা তো মমতা।’’ অতঃপর দ্বিতীয়বার কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, ’’চোখ অশ্রুপাত করছে এবং অন্তর দুঃখিত হচ্ছে। আমরা সে কথাই বলব, যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে। আর হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিরহে দুঃখিত।’’ (বুখারী, মুসলিম কিছু অংশ) [১]এ বিষয়ে আরো অনেক প্রসিদ্ধ সহীহ হাদীস রয়েছে।
সহীহুল বুখারী ১৩০৩, মুসলিম ২৩১৫, আবূ দাউদ ৩১২৬, আহমাদ ১২৬০৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৯৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের মৃত্যুর সময় কাছে যান। তখন তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, এটি মমতা। এরপর তিনি বলেন, চোখ অশ্রুপাত করে, অন্তর দুঃখিত হয়, কিন্তু আমরা সে কথাই বলব, যা আমাদের রবকে সন্তুষ্ট করে। তিনি আরও বলেন, হে ইব্রাহীম, তোমার বিচ্ছেদে আমরা দুঃখিত। এই হাদিসে শোকের আদব খুব পরিষ্কার। দুঃখ প্রকাশ করা যায়, কান্নাও আসতে পারে; কিন্তু মুখের কথা হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্যে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তান হারানোর দুঃখে কান্না করা মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি।
- শোকের সময় আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে এমন কথাই বলা উচিত।
- অন্তরের দুঃখ থাকলেও ঈমান ও ধৈর্য ধরে রাখা মুমিনের কাজ।
