৭/১৪৯. অধ্যায়ঃ
রুগ্ন ব্যক্তির জন্য ‘আমার যন্ত্রণা হচ্ছে’ অথবা ‘আমার প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে’ কিংবা ‘আমার জ্বর হয়েছে’ কিংবা ‘হায়! আমার মাথা গেল’ ইত্যাদি বলা জায়েয; যদি তা আল্লাহর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশের জন্য না হয়
অসুস্থতায় সহমর্মিতা: মাথাব্যথার হাদিসের সহজ শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৯২১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৯২১
وَعَنِ القَاسِمِ بنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: وَارَأسَاهُ ! فَقَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: « بَلْ أنَا، وَارَأسَاهُ ! » ... وذكر الحديث . رواه البخاري
কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিতঃ
একদা আয়েশা (রাঃ) বললেন, ’হায়! আমার মাথার ব্যথা।’ নবী (ﷺ) বললেন, ’’বরং হায়! আমার মাথার ব্যথা!’’ (অর্থাৎ আমার মাথাতেও প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে।) (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ৫৬৬৬, ৭২১৭, মুসলিম ২৩৮৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৯২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, আয়েশা (রাঃ) মাথাব্যথার কথা বলেছিলেন। নবী صلى الله عليه وسلم নিজেও তখন মাথাব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলেন এবং তিনি বললেন, বরং আমার মাথার ব্যথা। এখানে অসুস্থতার হাদিস থেকে একটি কোমল শিক্ষা পাওয়া যায়। নবী صلى الله عليه وسلم ছিলেন আল্লাহর রাসূল, তবু তিনি মানুষের মতোই ব্যথা, কষ্ট ও অসুস্থতার মুখোমুখি হয়েছেন। এতে বোঝা যায়, অসুস্থতা মুমিনের জীবনে আসতে পারে। আপনজন অসুস্থ হলে তার কষ্টকে ছোট করে দেখা ঠিক নয়। একই সঙ্গে নিজের কষ্টের কথাও স্বাভাবিকভাবে বলা যায়। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, রোগীর পাশে থাকা, তার কথা শোনা এবং সহমর্মিতা দেখানো সুন্দর আচরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থতা মানুষের স্বাভাবিক জীবনের অংশ; নবী صلى الله عليه وسلم-ও কষ্ট অনুভব করেছেন।
- আপনজনের ব্যথা-কষ্ট শুনে তাকে গুরুত্ব দেওয়া ভালো আচরণ।
- রোগের সময় ধৈর্য ও কোমল ভাষা একজন মুসলিমের চরিত্রকে সুন্দর করে।
