৭/১৪৫. অধ্যায়ঃ
অসুস্থ মানুষের জন্য যে সব দো‘আ বলা হয়
অসুস্থ অবস্থায় যিকির: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর ফজিলত
রিয়াদুস সালেহীন : ৯/৯১৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৯/৯১৪
وَعَنْ أَبي سعيد الخدري وأَبِي هُرَيرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أنَّهُمَا شَهِدَا عَلَى رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم، أنّه قَالَ: « مَنْ قَالَ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أكْبَرُ، صَدَّقَهُ رَبُّهُ، فَقَالَ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أنَا وَأَنَا أكْبَرُ . وَإِذَا قَالَ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، قَالَ: يَقُولُ: لاَ إِلٰهَ إلاَّ أنَا وَحْدِي لاَ شَريكَ لِي . وَإِذَا قَالَ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، قَالَ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أنَا لِيَ المُلْكُ وَلِيَ الحَمْدُ . وَإِذَا قَالَ: لاَ إله إِلاَّ اللهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ، قَالَ: لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أنَا وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِي » وَكَانَ يقُولُ: « مَنْ قَالَهَا في مَرَضِهِ ثُمَّ مَاتَ لَمْ تَطْعَمْهُ النَّارُ ». رواه الترمذي، وَقَالَ: «حديث حسن »
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) এবং আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা উভয়েই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অল্লাহু আকবার’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সবচেয়ে বড়) বলে, আল্লাহ তার সত্যায়ন করে বলেন, ’আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমি সবচেয়ে বড়।’আর যখন সে বলে ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ’আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, আমি একক, আমার কোন অংশী নেই।’আর যখন সে বলে ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই এবং তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা), তখন আল্লাহ বলেন, ’আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা আমারই এবং আমারই যাবতীয় প্রশংসা।’আর যখন সে বলে, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অলা হাওলা অলা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ’আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমার প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই।’নবী (ﷺ) বলতেন, ’’যে ব্যক্তি তার পীড়িত অবস্থায় এটি পড়ে মারা যাবে, জাহান্নামের আগুন তাকে খাবে না।’’ (অর্থাৎ সে জাহান্নামে যাবে না।) (তিরমিযী, হাসান সূত্রে) [১]
তিরমিযী ৩৪৩০, ইবনু মাজাহ ৩৭৯৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/৯১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অসুস্থ অবস্থায় পড়ার কয়েকটি তাওহীদভিত্তিক যিকির এসেছে। বান্দা যখন বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’, তখন আল্লাহ তার কথার সত্যায়ন করেন। একইভাবে আল্লাহর একত্ব, তাঁর মালিকানা, তাঁর প্রশংসা এবং ‘লা হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’—এসব কথার জবাব আল্লাহ দেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় এগুলো পড়ে মারা যায়, আগুন তাকে খাবে না। এই হাদিস তাওহীদের যিকিরের মর্যাদা দেখায়। অসুস্থতার সময় মন দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন আল্লাহর একত্ব, ক্ষমতা ও সাহায্যের কথা মনে করা বান্দার ঈমানকে শক্ত করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থ অবস্থায় তাওহীদের যিকির পড়া গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- আল্লাহর একত্ব, বড়ত্ব ও মালিকানা স্বীকার করা যিকিরের মূল বিষয়।
- লা হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বান্দাকে আল্লাহর ওপর ভরসা শেখায়।
- রোগের সময় ঈমানি কথা বলা হৃদয়কে আল্লাহমুখী করে।
