১/১০. অধ্যায়ঃ
শুভকাজে প্রতিযোগিতা ও শীঘ্র করা এবং পুণ্যকামীকে পুণ্যের প্রতি তৎপরতার সাথে নির্দ্বিধায় সম্পাদন করতে উৎসাহিত করা
আল্লাহ তাআলা বলেন, [ البقرة : ١٤٨ ] ﴿ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ﴾অর্থাৎ, অতএব তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা কর। (সূরা বাক্বারাহ ১৪৮ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴿ وَسَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ ﴾অর্থাৎ, তোমরা প্রতিযোগিতা (ত্বরা) কর, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে ক্ষমা এবংবেহেশ্তের জন্য, যার প্রস্থ আকাশ ও পৃথিবীর সমান, যা ধর্মভীরুদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। (সূরা আলে ইমরান ১৩৩ আয়াত)
সুস্থ অবস্থায় সাদকা: দেরি না করে দানের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৯১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৯১
عن أبي هريرة ، قَالَ : جاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبيِّ فَقَالَ : يَا رسولَ الله ، أيُّ الصَّدَقَةِ أعْظَمُ أجْرَاً ؟ قَالَ : « أنْ تَصَدَّقَ وَأنتَ صَحيحٌ شَحيحٌ ، تَخشَى الفَقرَ وتَأمُلُ الغِنَى ، وَلا تُمهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغتِ الحُلقُومَ قُلْتَ لِفُلان كذا ولِفُلانٍ كَذا ، وقَدْ كَانَ لِفُلانٍ » . مُتَّفَقٌ عَلَيهِ .
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, ’হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ সাদকাহ নেকীর দিক দিয়ে বড়?’ তিনি বললেন, ’’তোমার সে সময়ের সাদকাহ করা (বৃহত্তম নেকীর কাজ) যখন তুমি সুস্থ থাকবে, মালের লোভ অন্তরে থাকবে, তুমি দরিদ্রতার ভয় করবে এবং ধন-দৌলতের আশা রাখবে। আর তুমি সাদকাহ করতে বিলম্ব করো না। পরিশেষে যখন তোমার প্রাণ কণ্ঠাগত হবে, তখন বলবে, ’অমুকের জন্য এত, অমুকের জন্য এত। অথচ তা অমুকের (উত্তরাধিকারীর) হয়েই গেছে।’’[১]
সহীহুল বুখারী ১৪১৯, ২৮৪৮, মুসলিম ১০৩২, নাসায়ী ২৫৪২, ৩৬১১ আবূ দাউদ ২৮৬৫, আহমাদ ৭১১৯, ৭৩৫৯, ৭১১৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাদকার সময় ও মানসিক অবস্থার শিক্ষা আছে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, কোন সাদকা নেকীর দিক দিয়ে বড়। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, যখন তুমি সুস্থ, মালের প্রতি টান আছে, দরিদ্রতার ভয় করো এবং ধনী হওয়ার আশা রাখো—সে সময় সাদকা করা। অর্থাৎ যখন দান করা নিজের জন্য সহজ নয়, তখন আল্লাহর জন্য দান করার মূল্য বেশি। তিনি আরও বললেন, প্রাণ কণ্ঠাগত হওয়া পর্যন্ত দেরি করো না; তখন অমুককে এত, অমুককে এত বললেও মাল উত্তরাধিকারীর হয়ে যায়। তাই হাদিসটি সময় থাকতে দান করতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সুস্থ অবস্থায় সাদকা করা বিশেষ গুরুত্বের আমল।
- মালের টান থাকা অবস্থায় দান করা আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়।
- মৃত্যুর সময় পর্যন্ত দান বিলম্ব করা ঠিক নয়।
- সম্পদের মালিকানা চিরস্থায়ী নয়—তাই সময় থাকতে ভালো কাজে লাগানো দরকার।
