৭/১৪৪. অধ্যায়ঃ
রোগীকে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞাসাবাদ করার মাহাত্ম্য
রোগী দেখা ও অভাবীর সাহায্য: আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ
রিয়াদুস সলেহিন : ৩/৯০১
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৩/৯০১
وَعَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إِنَّ اللهَ - عَزَّ وَجَلَّ - يَقُولُ يَومَ القِيَامَةِ: يَا ابْنَ آدَمَ، مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدنِي ! قَالَ: يَا رَبِّ، كَيْفَ أعُودُكَ وَأنْتَ رَبُّ العَالَمِينَ ؟! قَالَ: أمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلاَناً مَرِضَ فَلَمْ تَعُدْهُ ! أمَا عَلِمْتَ أنَّكَ لَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدْتَني عِنْدَهُ ! يَا ابْنَ آدَمَ، اسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمنِي ! قَالَ: يَا رَبِّ، كَيْفَ أُطْعِمُكَ وَأنْتَ رَبُّ العَالَمِينَ ؟! قَالَ: أمَا عَلِمْتَ أنَّهُ اسْتَطْعَمَكَ عَبْدِي فُلانٌ فَلَمْ تُطْعِمْهُ ! أمَا عَلِمْتَ أنَّكَ لَوْ أَطْعَمْتَهُ لَوَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي ! يَا ابْنَ آدَمَ، اسْتَسْقَيْتُكَ فَلَمْ تَسْقِنِي ! قَالَ: يَا رَبِّ، كَيْفَ أَسْقِيكَ وَأنْتَ رَبُّ العَالَمينَ ؟! قَالَ: اسْتَسْقَاكَ عَبْدِي فُلاَنٌ فَلَمْ تَسْقِهِ ! أمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ سَقَيْتَهُ لَوَجَدْتَ ذَلِكَ عِنْدِي ! » رواه مسلم
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ) (রাঃ) থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’আল্লাহ আয্যা অজাল্ল কিয়ামতের দিন বলবেন, ’হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসনি।’ সে বলবে, ’হে প্রভু! কিভাবে আমি আপনাকে দেখতে যাব, আপনি তো সারা জাহানের পালনকর্তা?’ তিনি বলবেন, ’তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে, তাহলে অবশ্যই তুমি আমাকে তার কাছে পেতে?হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে খাবার দাওনি।’ সে বলবে, ’হে প্রভু! আমি আপনাকে কিভাবে খাবার দেব, আপনি তো সারা জাহানের প্রভু?’ আল্লাহ বলবেন, ’তোমার কি জানা ছিল না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল, কিন্তু তাকে তুমি খাবার দাওনি? তোমার কি জানা ছিল না যে, যদি তাকে খাবার দিতে, তাহলে অবশ্যই তা আমার কাছে পেতে?হে আদম সন্তান! তোমার কাছে আমি পানি পান করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পান করাওনি।’ বান্দা বলবে, ’হে প্রভু! আপনাকে কিরূপে পানি পান করাবো, আপনি তো সমগ্র জগতের প্রভু?’ তিনি বলবেন, ’আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, তুমি তাকে পান করাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তাকে পান করাতে, তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে পেতে? ’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ২৫৬৯, আহমাদ ৮৯৮৯
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৩/৯০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রোগী দেখা, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া এবং পিপাসার্তকে পানি পান করানোর গভীর শিক্ষা এসেছে। আল্লাহ কিয়ামতের দিন বান্দাকে প্রশ্ন করবেন, কেন সে অসুস্থ বান্দাকে দেখতে যায়নি, খাবার চাওয়া মানুষকে খাবার দেয়নি, আর পানি চাওয়া মানুষকে পানি দেয়নি। এখানে মূল বার্তা হলো, মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক ভালো কাজ নয়; এটি আল্লাহর কাছে মূল্যবান আমল। হাদিসের ভাষায় বোঝা যায়, অসুস্থ মুসলিমের খোঁজ নেওয়া, অভাবীর খাবারের ব্যবস্থা করা এবং পিপাসার্তকে পানি দেওয়া আল্লাহর নৈকট্য লাভের কারণ। তাই রোগী দেখার ফজিলত ও মানবসেবার গুরুত্ব বুঝে আমাদের উচিত সুযোগ পেলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেওয়া আল্লাহর কাছে মূল্যবান আমল।
- ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া ও পিপাসার্তকে পানি দেওয়া বড় মানবিক দায়িত্ব।
- মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ানো আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হতে পারে।
- অভাবী মানুষের অনুরোধ অবহেলা করা উচিত নয়।
