১/১. অধ্যায়ঃ

ইখলাস প্রসঙ্গে - প্রকাশ্য ও গোপনীয় আমল (কর্ম) কথা ও অবস্থায় আন্তরিকতা ও বিশুদ্ধ নিয়ত জরুরী

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ ٥ ﴾ [البينة: ٥]অর্থাৎ “তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং নামায কায়েম করতে ও যাকাত প্রদান করতে। আর এটাই সঠিক ধর্ম।” (সূরা বাইয়িনাহ্ ৫নং আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ لَن يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقۡوَىٰ مِنكُمۡۚ ﴾ [الحج: ٣٧]অর্থাৎ “আল্লাহর কাছে কখনোও ওগুলির মাংস পৌঁছে না এবং রক্তও না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাক্বওয়া (সংযমশীলতা)।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩৭ নং আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ قُلۡ إِن تُخۡفُواْ مَا فِي صُدُورِكُمۡ أَوۡ تُبۡدُوهُ يَعۡلَمۡهُ ٱللَّهُۗ ﴾ [ال عمران: ٢٩]অর্থাৎ “বল, তোমাদের মনে যা আছে তা যদি তোমরা গোপন রাখ কিংবা প্রকাশ কর, আল্লাহ তা অবগত আছেন।” (সূরা আলে ইমরান ২৯ নং আয়াত)

আল্লাহর পথে জিহাদ: নিয়তই আসল মানদণ্ড

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৯/৯

وعَنْ أبي مُوسَى عبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ الأَشعرِيِّ رضِي االله عنه قالَ: سُئِلَ رسول االله صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم عَنِ الرَّجُلِ يُقاتِلُ شَجَاعَةً ، ويُقاتِلُ حَمِيَّةً ويقاتِلُ رِياءً ، أَيُّ ذلِك في سَبِيلِ اللَّهِ؟ فَقَالَ رسول االله صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم : » مَنْ قاتَلَ لِتَكُون آلِمةُ اللَّهِ هِي الْعُلْيَا فهُوَ في سَبِيلِ اللَّهِ « مُتَّفَقٌ عليه

আবূ মূসা আব্দুল্লাহ ইবনু কায়স আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, যে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, অন্ধ পক্ষপাতিত্বের জন্য যুদ্ধ করে এবং লোক প্রদর্শনের জন্য (সুনাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে) যুদ্ধ করে, এর কোন্ যুদ্ধটি আল্লাহর পথে হবে? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, ’’যে ব্যক্তি আল্লাহর কালেমাকে উঁচু করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে, একমাত্র তারই যুদ্ধ আল্লাহর পথে হয়।’’[১]

সহীহুল বুখারী ১২৩, ২৮১০, ৩১২৬, ৭৪৫৮, মুসলিম ১৯০৪, তিরমিযী ১৬৪৬, নাসায়ী ৩১৩৬, আবূ দাউদ ২৫১৭, ইবনু মাজাহ ২৭৮৩, আহমাদ ১৮৯৯৯, ১৯০৪৯, ১৯০৯৯, ১৯১৩৪, ১৯২৪০।

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে যুদ্ধ বা জিহাদের ক্ষেত্রে নিয়তের গুরুত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কেউ বীরত্ব দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে, কেউ গোত্রীয় পক্ষপাতের জন্য যুদ্ধ করে, কেউ আবার লোকদেখানোর জন্য যুদ্ধ করে—এর কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কালেমাকে উঁচু করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে, তার যুদ্ধই আল্লাহর পথে। এখানে বাহ্যিক যুদ্ধ নয়, উদ্দেশ্যকে আসল মানদণ্ড করা হয়েছে। একই কাজ দেখতে একই রকম হলেও নিয়ত ভিন্ন হলে তার মূল্যও ভিন্ন হয়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, দ্বীনের কাজ, সাহস, ত্যাগ বা সংগ্রাম—সবকিছুতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর দ্বীনের উদ্দেশ্য সামনে রাখা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বীরত্ব দেখানো আল্লাহর পথে হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
  • লোকদেখানো কাজ আল্লাহর পথে কাজের মানদণ্ড নয়।
  • আল্লাহর কালেমা উঁচু করার উদ্দেশ্য জিহাদের মূল নিয়ত।
  • বাহ্যিক কাজের সঙ্গে উদ্দেশ্যও বিশুদ্ধ হওয়া দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন