৬/১৪৩. অধ্যায়ঃ
সাক্ষাৎকালীন আদব - সাক্ষাৎকালে মুসাফাহা করা, হাসিমুখ হওয়া, সৎ ব্যক্তির হাত চুমা, নিজ সন্তানকে স্নেহভরে চুমা দেওয়া, সফর থেকে আগত ব্যক্তির সাথে মু‘আনাকা (কোলাকুলি) করা মুস্তাহাব। আর (কারোর সম্মানার্থে) সামনে মাথা নত করা মাকরূহ।
হাসিমুখে সাক্ষাৎ: ছোট ভালো কাজও তুচ্ছ নয়
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/৮৯৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/৮৯৭
وَعَنْ أَبي ذَرٍّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ لِي رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم: « لاَ تَحقِرَنَّ مِنَ الْمَعرُوف شَيْئاً، وَلَوْ أنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهٍ طَلْقٍ». رواه مسلم
আবূ যার্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, ’’কোন পুণ্য কাজকে তুমি অবশ্যই তুচ্ছ মনে করো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সাথে সহাস্য বদনে সাক্ষাৎ করার পুণ্যই হোক না কেন।’’ (মুসলিম)[১]
মুসলিম ২৬২৬, তিরমিযী ১৮৩৩, ইবনু মাজাহ ৩৩৬২, দারেমী ২০৭৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/৮৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ভালো কাজকে ছোট মনে না করার শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবু যর (রা.)-কে বললেন, কোনো পুণ্য কাজকে তুচ্ছ মনে করো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার মতো কাজই হোক। অর্থাৎ মানুষকে ভালোভাবে দেখা, মুখ গম্ভীর না রাখা, সুন্দর ব্যবহার করা—এসবও নেক কাজের মধ্যে পড়ে। এখানে বড় দান, বড় ইবাদত বা কঠিন কাজের কথা নেই; বরং খুব সহজ একটি আচরণের কথা বলা হয়েছে। তাই হাসিমুখে সাক্ষাৎ হাদিসটি আমাদের শেখায়, দৈনন্দিন জীবনের ছোট ভালো ব্যবহারও মূল্যবান। তবে হাদিসের বাইরে গিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঠিক নয়; মূল কথা হলো, ভালো কাজকে ছোট ভাবা যাবে না। এ কারণে ছোট হাসি, নরম মুখভঙ্গি এবং ভালোভাবে দেখা করা—এসবকে অবহেলা করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়।
- হাসিমুখে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করাও ভালো কাজ।
- ভালো ব্যবহার দৈনন্দিন নেকির একটি সহজ পথ।
