৬/১৩১. অধ্যায়ঃ
সালাম দেওয়ার গুরুত্ব ও তা ব্যাপকভাবে প্রচার করার নির্দেশ
আল্লাহ বলেছেন,﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدْخُلُواْ بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَهْلِهَا ﴾ [النور: ٢٧]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য কারও গৃহে গৃহবাসীদের অনুমতি না নিয়ে ও তাদেরকে সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না।” (সূরা নূর ২৭ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴿ فَإِذَا دَخَلۡتُم بُيُوتٗا فَسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ تَحِيَّةٗ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ مُبَٰرَكَةٗ طَيِّبَةٗۚ ﴾ [النور: ٦١]অর্থাৎ “যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে, তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এ হবে আল্লাহর নিকট হতে কল্যাণময় ও পবিত্র অভিবাদন।” (সূরা নূর ৬১ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿ وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٖ فَحَيُّواْ بِأَحۡسَنَ مِنۡهَآ أَوۡ رُدُّوهَآۗ ﴾ [النساء: ٨٦]অর্থাৎ “যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয় (সালাম দেওয়া হয়), তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন কর অথবা ওরই অনুরূপ কর।” (সূরা নিসা ৮৬ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴿ هَلۡ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ضَيۡفِ إِبۡرَٰهِيمَ ٱلۡمُكۡرَمِينَ ٢٤ إِذۡ دَخَلُواْ عَلَيۡهِ فَقَالُواْ سَلَٰمٗاۖ قَالَ سَلَٰمٞ ﴾ [الذاريات: ٢٤، ٢٥]অর্থাৎ “তোমার নিকট ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি? যখন তারা তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ’সালাম।’ উত্তরে সে বলল, ’সালাম।’” (সূরা যারিয়াত ২৪-২৫ আয়াত)
সালাম প্রচার: ঈমান ও ভালোবাসার পথ
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৮৫২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৮৫২
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « لاَ تَدْخُلُوا الجَنَّةَ حَتَّى تُؤمِنُوا، وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أوَلاَ أدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ ؟ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ ». رواه مسلم
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যতক্ষণ না তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে উঠবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলে দেব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালবাসতে লাগবে? (তা হচ্ছে) তোমরা আপোসের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’’ (মুসলিম)[১]
মুসলিম ৫৪, তিরমিযী ২৬৮৮, আবূ দাউদ ৫১৯৩, ইবনু মাজাহ ৬৮, ৩৬৯২, আহমাদ ৮৮৪১, ৯৪১৬, ৯৮২১, ১০২৭২, ২৭৩১৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৮৫২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: সালাম। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না, আর যতক্ষণ পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে উঠবে না, ততক্ষণ প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না। এরপর তিনি এমন একটি কাজের কথা বললেন, যা করলে একে অপরকে ভালোবাসতে লাগবে—তা হলো নিজেদের মধ্যে সালাম প্রচার করা। এই হাদিস সালামের গভীর সামাজিক প্রভাব দেখায়। সালাম শুধু মুখের অভিবাদন নয়; এটি শান্তি, নিরাপত্তা ও ভালোবাসার বার্তা। যখন মানুষ বেশি সালাম দেয়, তখন দূরত্ব কমে, মন নরম হয় এবং সম্পর্ক সুন্দর হয়। তাই ইসলামে সালাম প্রচারকে ভালোবাসা বাড়ানোর একটি সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে শেখানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পারস্পরিক ভালোবাসা ঈমানের সঙ্গে যুক্ত।
- সালাম প্রচার ভালোবাসা বাড়ানোর একটি আমল।
- সালাম সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য তৈরি করে।
- মুসলিমদের মধ্যে সালাম ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে।
