৫/১৩০. অধ্যায়ঃ
স্বপ্ন ও তার আনুষঙ্গিক বিবরণ
মহান আল্লাহ বলেন,﴿ وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦ مَنَامُكُم بِٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ﴾ [الروم: ٢٣]অর্থাৎ “তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে তোমাদের রাতের বেলায় ও দিবাভাগে ঘুমানো।” (সূরা রূম ২৩ আয়াত)
সুস্বপ্ন: মুমিনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৮৪২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৮৪২
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « لَمْ يَبْقَ مِنَ النُّبوَّةِ إِلاَّ المُبَشِّرَاتِ» قَالُوا: وَمَا المُبَشِّرَاتُ ؟ قَالَ: « الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ ». رواه البخاري
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূল (ﷺ)কে বলতে শুনেছি যে, ’’সুসংবাদ ছাড়া নবুঅতের কিছু বাকি থাকবে না।’’ লোকেরা প্রশ্ন করল, ’সুসংবাদ কী?’ তিনি বললেন, ’’সুস্বপ্ন।’’ (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ৬৯৮৩, তিরমিযী ২২৭২, ২২৬৪, ইবনু মাজাহ ৩৮৯৩
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৮৪২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: সুস্বপ্ন। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, নবুঅতের কিছু আর বাকি থাকবে না, শুধু “সুসংবাদ” থাকবে। সাহাবীগণ যখন জানতে চাইলেন সুসংবাদ কী, তখন তিনি বললেন, তা হলো সুস্বপ্ন। এই কথার মাধ্যমে বোঝা যায়, ভালো স্বপ্ন মুমিনের জীবনে আশার একটি দিক হতে পারে। তবে হাদিসে এটিকে নবুঅত দাবি করার পথ বানানো হয়নি; বরং সুস্বপ্নকে একটি শুভ লক্ষণ ও আল্লাহর দয়া হিসেবে বোঝানো হয়েছে। তাই সুস্বপ্ন দেখলে মানুষ আনন্দিত হতে পারে, আল্লাহর প্রশংসা করতে পারে এবং ভালো অর্থ নিতে পারে। এই হাদিস সুস্বপ্নের গুরুত্ব, মুমিনের আশা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ভালো বার্তার বিষয়টি সহজভাবে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সুস্বপ্ন মুমিনের জন্য সুসংবাদের একটি দিক।
- নবুঅত শেষ হলেও সুস্বপ্নের মাধ্যমে ভালো বার্তার কথা এসেছে।
- ভালো স্বপ্ন দেখে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।
- স্বপ্নকে নবুঅতের দাবি বা নতুন বিধানের উৎস বানানো যাবে না।
