৫/১২৯. অধ্যায়ঃ
মজলিস ও বসার সাথীর নানা আদব-কায়দা
আল্লাহর যিকির: বৈঠক ও শয্যার গুরুত্বপূর্ণ আমল
রিয়াদুস সালেহীন : ১৩/৮৪১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৩/৮৪১
وَعَنْهُ، عَن رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « مَنْ قَعَدَ مَقْعَداً لَمْ يَذْكُرِ الله تَعَالَى فِيهِ كَانَتْ عَلَيْهِ مِنَ اللهِ تِرَةٌ، وَمَنِ اضْطَجَعَ مَضْجَعَاً لاَ يَذْكُرُ اللهَ تَعَالَى فِيهِ كَانَتْ عَلَيْهِ مِنَ اللهِ تِرَةٌ ». رواه أَبُو داود
উক্ত রাবী হতে বর্ণিতঃ
উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ রা.) থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি কোন বৈঠকে বসে তাতে আল্লাহর যিকির করল না, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ক্ষতি হবে। আর যে ব্যক্তি কোন শয্যায় শয়ন করে তাতে আল্লাহর যিকির করে না, তাহলে আল্লাহর তরফ থেকে তার ক্ষতি হবে।’’ (আবু দাঊদ)[১]
আবূ দাউদ ৪৮৫৬।
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৩/৮৪১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: যিকির। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) খুব সহজ ভাষায় একটি বড় শিক্ষা দিয়েছেন—মানুষ যখন কোনো বৈঠকে বসে, তখন সেখানে আল্লাহর যিকির থাকা উচিত। একইভাবে শোয়ার সময়ও আল্লাহকে স্মরণ করা দরকার। হাদিসের ভাষায়, বৈঠক বা শয্যায় আল্লাহর যিকির না থাকলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য ক্ষতি বা আফসোসের কারণ হবে। তাই মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর স্মরণ শুধু নামাজের সময়েই সীমাবদ্ধ নয়। কথা বলা, বসা, ঘুমাতে যাওয়া—সব অবস্থায় হৃদয়কে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখা দরকার। এই শিক্ষা আমাদেরকে মজলিসের আদব, ঘুমের আগের যিকির এবং আল্লাহকে স্মরণ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৈঠকে বসলে আল্লাহর যিকির করা উচিত।
- শোয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব।
- যিকিরহীন মজলিস বা শয্যা পরে আফসোসের কারণ হতে পারে।
- দৈনন্দিন কাজের মাঝেও আল্লাহর স্মরণ রাখার শিক্ষা পাওয়া যায়।
