৫/১২৯. অধ্যায়ঃ

মজলিস ও বসার সাথীর নানা আদব-কায়দা

মজলিস শেষে দোয়া: আল্লাহভীতি, আনুগত্য ও একীনের প্রার্থনা

রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১০/৮৩৮

وَعَنْ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُومُ مِنْ مَجْلِسٍ حَتَّى يَدْعُوَ بِهَؤُلاَءِ الدَّعَواتِ: « اَللهم اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا تَحُولُ بِهِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيكَ، وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ، وَمِنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ عَلَيْنَا مَصَائِبَ الدُّنْيَا، اَللهم مَتِّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا، وَأَبْصَارِنَا، وَقُوَّتِنَا مَا أحْيَيْتَنَا، وَاجْعَلْهُ الوَارِثَ مِنَّا، وَاجْعَلْ ثَأرَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا، وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا، وَلاَ تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا، وَلاَ تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا، وَلاَ مَبْلَغَ عِلْمِنَا، وَلاَ تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لاَ يَرْحَمُنَا ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

বনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

খুব কম মজলিসই এমন হতো, যেখান থেকে নবী (ﷺ) এই দো’আ না পড়ে উঠতেন, (অর্থাৎ অধিকাংশ মজলিস থেকে উঠার আগে এই দো’আ পড়তেন,)’’আল্লা-হুম্মাক্বসিম লানা মিন খাশয়্যাতিকা মা তাহূলু বিহী বাইনানা অবাইনা মা’আ-স্বীক, অমিন ত্বা-’আতিকা মা তুবাল্লিগুনা বিহী জান্নাতাক, অমিনাল য়্যাক্বীনি মা তুহাউবিনু বিহী আলাইনা মাস্বা-ইবাদ দুন্য়্যা। আল্লাহুম্মা মাত্তি’না বিআসমা-’ইনা অ আবস্বা-রিনা অ ক্বুউওয়াতিনা মা আহয়্যাইতানা, অজ্’আলহুল ওয়া-রিসা মিন্না। অজ’আল সা’রানা আলা মান যালামানা, অনস্বুরনা ’আলা মান ’আ-দা-না, অলা তাজ’আল মুস্বীবাতানা ফী দ্বীনিনা। অলা তাজ’আলিদ্দুন্য়্যা আকবারা হাম্মিনা অলা মাবলাগা ’ইলমিনা, অলা তুসাল্লিত্ব ’আলাইনা মাল লা য়্যারহামুনা।’’অর্থাৎ আল্লাহ গো! আমাদের জন্য তোমার ভীতি বিতরণ কর, যার দ্বারা তুমি আমাদের ও তোমার অবাধ্যাচরণের মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি কর। তোমার আনুগত্য বিতরণ কর, যার দ্বারা তুমি আমাদেরকে তোমার জান্নাতে পৌঁছাও। আমাদের জন্য এমন একীন (প্রত্যয়) বিতরণ কর, যার দ্বারা তুমি আমাদের উপর দুনিয়ার বিপদসমূহকে সহজ করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের কর্ণ, চক্ষু ও শক্তি দ্বারা যতদিন আমাদেরকে জীবিত রাখ, ততদিন আমাদেরকে উপকৃত কর এবং তা আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত অবশিষ্ট রাখ। যারা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে, তাদের নিকট আমাদের প্রতিশোধ নাও। যারা আমাদের সাথে শত্রুতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর। আমাদের দ্বীনে আমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করো না। দুনিয়াকে আমাদের বৃহত্তম চিন্তার বিষয় এবং আমাদের জ্ঞানের শেষ সীমা করো না, আর যারা আমাদের উপর রহম করে না, তাদেরকে আমাদের উপর ক্ষমতাসীন করো না। (তিরমিযী, হাসান)[১]

তিরমিযী ৩৫০২

রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১০/৮৩৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মজলিস শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি ব্যাপক দোয়া এসেছে। ইবনে উমর (রা.) বলেন, খুব কম মজলিসই এমন হতো, যেখান থেকে নবী (صلى الله عليه وسلم) এই দোয়া না পড়ে উঠতেন। দোয়ায় তিনি আল্লাহভীতি চাইতেন, যা অবাধ্যতা থেকে দূরে রাখে। তিনি আনুগত্য চাইতেন, যা জান্নাতে পৌঁছানোর কারণ হয়। তিনি এমন একীন চাইতেন, যা দুনিয়ার বিপদ সহজ করে। তিনি কান, চোখ ও শক্তি দ্বারা উপকার চেয়েছেন, জুলুমকারীর বিরুদ্ধে সাহায্য চেয়েছেন, দ্বীনের বিপদ থেকে আশ্রয় চেয়েছেন এবং দুনিয়াকে সবচেয়ে বড় চিন্তা না বানানোর প্রার্থনা করেছেন। এই দোয়া মজলিস শেষে জীবনের বড় প্রয়োজনগুলো আল্লাহর কাছে চাওয়ার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী (صلى الله عليه وسلم) অধিকাংশ মজলিস শেষে ব্যাপক দোয়া করতেন।
  • দোয়ায় আল্লাহভীতি, আনুগত্য ও একীন চাওয়া হয়েছে।
  • দ্বীনের বিপদ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া দরকার।
  • দুনিয়াকে জীবনের সবচেয়ে বড় চিন্তা না বানানোর শিক্ষা আছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন