৫/১২৯. অধ্যায়ঃ
মজলিস ও বসার সাথীর নানা আদব-কায়দা
কাফফারাতুল মজলিসের দোয়া: বৈঠক শেষে ক্ষমা প্রার্থনা
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/৮৩৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/৮৩৬
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « مَنْ جَلَسَ فِي مَجْلِسٍ، فَكَثُرَ فِيهِ لَغَطُهُ فَقَالَ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ مِنْ مَجْلِسِهِ ذَلِكَ: سُبْحَانَكَ اَللهم وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إلَيْكَ، إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ فِي مَجْلِسِهِ ذَلِكَ». رواه الترمذي، وقال:حديث حسن صحيح
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি এমন সভায় বসে, যাতে খুব বেশি হৈ-হল্লা হয়, অতঃপর যদি উক্ত সভা ত্যাগ করে চলে যাওয়ার আগে এই দো’আ পড়ে,’’সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা অবিহামদিকা আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা আস্তাগফিরুকা অ আতূবু ইলাইক্।’’(অর্থাৎ তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করি হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসার সাথে। আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকে তওবা (প্রত্যাবর্তন) করছি।) তাহলে উক্ত মজলিসে কৃত অপরাধ তার জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (তিরমিযী, হাসান সহীহ)[১]* (প্রকাশ থাকে যে, এই দো’আকে ’কাফফারাতুল মাজলিস’-এর দো’আ বলা হয়।
তিরমিযী ৩৪৩৩, আহমাদ ১০০৪৩
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/৮৩৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কাফফারাতুল মজলিসের দোয়া শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন সভায় বসে যেখানে খুব বেশি হৈ-হল্লা হয়, তারপর সভা ছাড়ার আগে দোয়াটি পড়ে, তার ওই মজলিসে হওয়া অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। দোয়ার অর্থ হলো, হে আল্লাহ, তোমার প্রশংসাসহ তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ছাড়া সত্য উপাস্য নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকে তওবা করি। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কথাবার্তার মজলিসে ভুল হতে পারে। তাই শেষ করার আগে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া দরকার। এটি মজলিসের আদবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হৈ-হল্লাপূর্ণ মজলিস শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া শেখানো হয়েছে।
- কাফফারাতুল মজলিসের দোয়া মজলিসের আদবের অংশ।
- মজলিসে ভুল হলে তওবা ও ইস্তিগফারের দিকে ফিরতে হবে।
- সভা শেষ করার আগে আল্লাহর স্মরণ করা ভালো অভ্যাস।
