৫/১২৯. অধ্যায়ঃ
মজলিস ও বসার সাথীর নানা আদব-কায়দা
জুমআর দিনের আদব: গোসল, সুগন্ধি ও খুৎবা শোনা
রিয়াদুস সলেহিন : ৪/৮৩২
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৪/৮৩২
وَعَنْ أَبي عَبدِ اللهِ سَلْمَانَ الفَارِسِي رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « لاَ يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَيَتَطهَّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، وَيَدَّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ، أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ، ثُمَّ يَخْرُجُ فَلاَ يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَينِ، ثُمَّ يُصَلِّي مَا كُتِبَ لَهُ، ثُمَّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلَّمَ الإمَامُ، إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الجُمُعَةِ الأُخْرَى ». رواه البخاري
আবূ আব্দুল্লাহ সালমান ফারেসী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি জুমআর দিনে গোসল করে, যথাসম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে, তেল ব্যবহার করে অথবা ঘরের সুগন্ধি নিয়ে লাগায়। অতঃপর জুমআর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে মসজিদে প্রবেশ করে দু’জনের মধ্যে পৃথক করে না। তারপর তার ভাগ্যে যতটা লেখা হয়েছে, ততটা নামায আদায় করে, তারপর যখন ইমাম খুৎবা দেয় তখন সে চুপ থাকে, তাহলে তার জন্য এক জুমআহ থেকে অন্য জুমআহ পর্যন্ত কৃত পাপরাশি ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’’ (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ৮৮৩, ৯১০, নাসায়ী ১৪০৩, আহমাদ ২৩১৯৮, ২৩২০৬, ২৩২১৩, দারেমী ১৫৪১
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৪/৮৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমআর দিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদব একসঙ্গে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিনে গোসল করে, যথাসম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে, তেল ব্যবহার করে অথবা ঘরের সুগন্ধি লাগায়, তারপর জুমআর উদ্দেশ্যে বের হয়, মসজিদে দু’জনের মধ্যে পৃথক করে না, এরপর তার ভাগ্যে যতটা লেখা হয়েছে ততটা নামাজ পড়ে এবং ইমাম খুৎবা দিলে চুপ থাকে—তার জন্য এক জুমআহ থেকে অন্য জুমআহ পর্যন্ত কৃত পাপ ক্ষমার কথা এসেছে। এখানে জুমআর দিনের আদব শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নয়; মসজিদে অন্যকে কষ্ট না দেওয়া এবং খুৎবা মন দিয়ে শোনাও এর অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমআর দিনে গোসল ও পবিত্রতা অর্জনের শিক্ষা এসেছে।
- সুগন্ধি ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন হয়ে মসজিদে যাওয়া ভালো আদব।
- মসজিদে দু’জনের মধ্যে ফাঁক সৃষ্টি করা উচিত নয়।
- ইমাম খুৎবা দিলে চুপ থাকা জুমআর গুরুত্বপূর্ণ আদব।
