৪/১২০. অধ্যায়ঃ
বিনয়বশতঃ মূল্যবান পোশাক পরিধান ত্যাগ করা মুস্তাহাব
এ পরিচ্ছেদ বিষয়ক কিছু হাদীস ’উপবাস ও অনাড়ম্বর জীবন-যাপনের মাহাত্ম্য’ পরিচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিনয়ের জন্য দামি পোশাক পরিহার: পোশাকে তাকওয়ার শিক্ষা
রিয়াদুস সলেহিন : ১/৮০৬
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১/৮০৬
وَعَنْ مُعَاذِ بنِ أَنَسٍ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: مَنْ تَرَكَ اللِّبَاسَ تَوَاضُعاً للهِ، وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ، دَعَاهُ اللهُ يَومَ القِيَامَةِ عَلَى رُؤُوسِ الخَلائِقِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أيِّ حُلَلِ الإيمَانِ شَاءَ يَلْبَسُهَا ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن »
মু‘আয ইবনে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি মূল্যবান পোশাক পরার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিনয়বশতঃ তা পরিহার করল, আল্লাহ কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষের সাক্ষাতে তাকে ডেকে স্বাধীনতা দেবেন, সে যেন ঈমানের (অর্থাৎ ঈমানদারদের পোশাক) জোড়াসমূহের মধ্য থেকে যে কোন জোড়া বেছে নিয়ে পরিধান করে।’’ (তিরমিযী, হাসান)[১]
তিরমিযী ২৪৮১, আহমাদ ১৫২০৪
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১/৮০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পোশাকের সঙ্গে বিনয়ের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি মূল্যবান পোশাক পরার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর জন্য বিনয় দেখিয়ে তা পরিহার করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে মানুষের সামনে ডেকে ঈমানদারদের পোশাকের জোড়াগুলোর মধ্য থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবেন। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, হাদিসটি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিনয়ের কথা বলছে। অর্থাৎ শুধু দরিদ্রতার কারণে না, বরং আল্লাহর জন্য অহংকার ও প্রদর্শন এড়িয়ে চলার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই হাদিস থেকে সাধারণভাবে ভালো পোশাক নিষিদ্ধ বলা যায় না, কারণ অন্য বর্ণনায় নেয়ামতের চিহ্ন দেখা যাওয়ার কথাও এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, পোশাক যেন অহংকার ও দেখানোর কারণ না হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামর্থ্য থাকলেও বিনয়ী থাকা প্রশংসনীয়।
- পোশাককে অহংকার বা প্রদর্শনের মাধ্যম বানানো উচিত নয়।
- আল্লাহর জন্য কোনো বৈধ আরাম ছাড়াও নেক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
- সাদামাটা পোশাক তখনই মূল্যবান, যখন তা বিনয়ের কারণে হয়।
