৪/১১৭. অধ্যায়ঃ

সাদা কাপড় পরা উত্তম। লাল, সবুজ, হলুদ এবং কালো রঙের কাপড় পরাও বৈধ। আর রেশম ব্যতিত সুতি, উল, পশমি ইত্যাদি সবরকমের কাপড় পরা জায়েজ।

সাদা রঙের কাপড় উত্তম। আর লাল, সবুজ ও কালো রঙের কাপড় বৈধ। আর রেশমী বস্ত্র ছাড়া সুতি, উল, পশম ও লোম ইত্যাদির কাপড় পরিধান করা জায়েয।আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا ۖ وَلِبَاسُ التَّقْوَىٰ ذَٰلِكَ خَيْرٌ ﴾ [الاعراف: ٢٦]অর্থাৎ “হে বনী আদম! (হে মানবজাতি) তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার জন্য আমি তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ অবতীর্ণ করেছি। আর সংযমশীলতার পরিচ্ছদই সর্বোৎকৃষ্ট।” সূরা আ’রাফ ২৬ আয়াত)আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন,﴿ وَجَعَلَ لَكُمۡ سَرَٰبِيلَ تَقِيكُمُ ٱلۡحَرَّ وَسَرَٰبِيلَ تَقِيكُم بَأۡسَكُمۡۚ ﴾ [النحل: ٨١]অর্থাৎ তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেছেন পরিধেয় বস্ত্রের; যা তোমাদেরকে তাপ হতে রক্ষা করে এবং তিনি ব্যবস্থা করেছেন তোমাদের জন্য বর্মের, ওটা তোমাদের যুদ্ধে রক্ষা করে। (সূরা নাহল ৮১ আয়াত)

মক্কায় নবীজির লাল পোশাক, আযান ও সুতরাহসহ নামাজ

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৭৮৬

وَعَن أَبي جُحَيفَةَ وَهْبِ بنِ عَبدِ اللهِ رضي الله عنه، قَالَ: رَأيتُ النبيَّ صلى الله عليه وسلم بِمكّةَ وَهُوَ بِالأَبْطَحِ في قُبَّةٍ لَهُ حَمْرَاءَ مِنْ أَدَمٍ، فَخَرَجَ بِلاَلٌ بِوَضُوئِهِ، فَمِنْ نَاضِحٍ وَنَائِلٍ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ، كَأنِّي أنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ سَاقَيْهِ، فَتَوَضّأ وَأذَّنَ بِلاَلٌ، فَجَعَلْتُ أتَتَبَّعُ فَاهُ هَاهُنَا وَهَاهُنَا، يَقُولُ يَمِيناً وَشِمَالاً: حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ، حَيَّ عَلَى الفَلاَحِ، ثُمَّ رُكِزَتْ لَهُ عَنَزَةٌ، فَتَقَدَّمَ فَصَلَّى يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ الْكَلْبُ وَالْحِمَارُ لاَ يُمْنَعُ . متفقٌ عَلَيْهِ .

আবূ জুহাইফাহ অহাব ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মক্কায় দেখলাম, যখন তিনি আবত্বাহ নামক স্থানে চর্মনির্মিতলাল রঙের শিবিরেঅবস্থান করছিলেন। বিলাল তাঁর ওজুর পানি নিয়ে বাইরে বের হলেন। কিছু লোক (বরকত হাসিল করার জন্য) উক্ত পানির ছিটা পেল আর কিছু সংখ্যক লোক পানি পেল। তারপর নবী (ﷺ) লাল রঙের জোড়া বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় বাইরে এলেন। যেন আমি তাঁর দুই পায়ের গোছার শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করছি। অতঃপর তিনি ওজু করলেন এবং বিলাল আযান দিলেন।আমি তাঁর এদিক ওদিক মুখ ফিরানো লক্ষ্য করছিলাম। তিনি ডানে ও বামে মুখ ফিরিয়ে ’হাইয়্যা আলাস স্বালাহ’, ’হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলছিলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) এর জন্য একটি বর্শা (সুতরাহ স্বরূপ) পুঁতে দেওয়া হল। তারপর তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং নামায পড়ালেন। তাঁর (সুতরার) সামনে দিয়ে কুকুর ও গাধা অতিক্রম করছিল। সেগুলোকে বাধা দেওয়া হচ্ছিল না। (বুখারী ও মুসলিম)[১]

সহীহুল বুখারী ১৮৮, ১৯৬, ৩৭৬, ৪৯৫, ৪৯৯, ৫০১, ৬৩৩, ৩৫৫৩, মুসলিম ৫০৩, ২৪৯৭, নাসায়ী ৪৭০, আবূ দাউদ ৬৮৮, আহমাদ ১৮২৬৮, ১৮২৭৮, দারেমী ১৪০৯

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৭৮৬-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ বর্ণনায় আবূ জুহাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কায় নবী صلى الله عليه وسلم-কে দেখার একটি দৃশ্য বলেছেন। নবী صلى الله عليه وسلم আবত্বাহ এলাকায় লাল চর্মনির্মিত শিবিরে ছিলেন। বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ওজুর পানি নিয়ে বের হলেন, মানুষ সেই পানির কিছু অংশ পেল। পরে নবী صلى الله عليه وسلم লাল জোড়া বস্ত্র পরে বের হলেন, ওজু করলেন, আর বিলাল আযান দিলেন। বর্ণনাকারী বিলালের মুখ ডানে-বামে ফিরতে দেখেছেন, যখন তিনি হাইয়্যা আলাস সালাহ ও হাইয়্যা আলাল ফালাহ বলছিলেন। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم-এর জন্য বর্শা সুতরাহ হিসেবে পোঁতা হলো এবং তিনি নামাজ পড়ালেন। হাদিসে পোশাক, ওজু, আযান ও সুতরাহ—সবকিছু একটি বাস্তব দৃশ্যে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওজু ও নামাজের দৃশ্য সাহাবিরা যত্ন করে বর্ণনা করেছেন।
  • আযানে ডানে-বামে মুখ ফেরানোর একটি বাস্তব বর্ণনা এখানে আছে।
  • নামাজে সুতরাহ ব্যবহার করার দৃশ্য এই হাদিসে এসেছে।
  • লাল পোশাকে নবী صلى الله عليه وسلم-কে দেখার আরেকটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন