৩/১০২. অধ্যায়ঃ
নফল রোযাদারের সামনে খাবার এসে গেলে যখন সে রোযা ভাঙ্গতে প্রস্তুত নয়, তখন সে কী বলবে?
খাবারের দাওয়াত গ্রহণের আদব ও রোজাদারের করণীয়
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৭৪২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৭৪২
عَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إِذَا دُعِيَ أحَدُكُمْ فَلْيُجِبْ، فَإنْ كَانَ صَائِماً فَلْيُصَلِّ، وَإنْ كَانَ مُفْطِراً فَلْيَطْعَمْ ». رواه مسلم
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যখন তোমাদের কাউকে খাবারের দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সে যেন তা (কোন আপত্তিকর ব্যাপার না থাকলে সাদরে) গ্রহণ করে। আর সে যদি রোযা অবস্থায় থাকে, তাহলে (দাওয়াতকারীর জন্য) দো’আ করে। আর যদি রোযা অবস্থায় না থাকে, তাহলে যেন আহার করে। (মুসলিম)[১]
মুসলিম ১৪৩১, তিরমিযী ৭৮০, আবূ দাউদ ২৪৬০, আহমাদ ৭৬৯১, ৯৯৭৬, ১০২০৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৭৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খাবারের দাওয়াতের আদব শিখিয়েছেন। কাউকে খাবারের জন্য ডাকা হলে, আপত্তিকর কিছু না থাকলে দাওয়াত গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এতে মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা, দাওয়াতদাতার মন খুশি করা এবং সামাজিক সৌজন্য রক্ষা করার শিক্ষা আছে। তবে কেউ যদি রোজা অবস্থায় থাকে, তাহলে তার কাজ হলো দাওয়াতদাতার জন্য দোয়া করা। আর রোজা না থাকলে সে যেন আহার করে। এই নির্দেশনা খুব সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, খাবারের দাওয়াত শুধু খাওয়া নয়; বরং ভালো ব্যবহার, দোয়া এবং ভ্রাতৃত্বের একটি সুন্দর মাধ্যম।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আপত্তিকর কিছু না থাকলে খাবারের দাওয়াত গ্রহণ করা ভালো আদব।
- রোজাদার দাওয়াতে গেলে দাওয়াতদাতার জন্য দোয়া করতে পারে।
- রোজা না থাকলে দাওয়াতের খাবার খাওয়া দাওয়াতদাতার সম্মান রক্ষা করে।
- দাওয়াত সামাজিক সম্পর্ক ভালো রাখার একটি সুন্দর পথ।
