২/৯৭. অধ্যায়ঃ
ইস্তেখারা (মঙ্গল জ্ঞান লাভ করা) ও পরামর্শ করা প্রসঙ্গে
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿وَشَاوِرۡهُمۡ فِي ٱلۡأَمۡرِۖ ﴾ [ال عمران: ١٥٩]অর্থাৎ “কাজে-কর্মে তুমি তাদের সাথে পরামর্শ কর।” (সূরা আলে ইমরান ১৫৯ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴿ وَأَمۡرُهُمۡ شُورَىٰ بَيۡنَهُمۡ ﴾ [الشورى: ٣٨]অর্থাৎ “তারা আপোসে পরামর্শের মাধ্যমে নিজেদের কর্ম সম্পাদন করে।” (সূরা শূরা ৩৮ আয়াত)
ইস্তেখারার নামাজ: সিদ্ধান্তের আগে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া
রিয়াদুস সলেহিন : ১/৭২২
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১/৭২২
وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا الاسْتِخَارَةَ في الأُمُورِ كُلِّهَا كَالسُّورَةِ مِنَ القُرْآنِ، يَقُولُ: إِذَا هَمَّ أحَدُكُمْ بِالأَمْرِ، فَلْيَركعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الفَرِيضَةِ، ثُمَّ ليَقُلْ: اَللهم إنِّي أسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْألُكَ مِنْ فَضْلِكَ العَظِيْمِ، فَإنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلاَ أعْلَمُ، وَأنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ . اَللهم إنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أنَّ هَذَا الأمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أمْرِي أَوْ قَالَ: عَاجِلِ أمْرِي وَآجِلِهِ، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي، ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ . وَإنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ: عَاجِلِ أمْرِي وَآجِلِهِ ؛ فَاصْرِفْهُ عَنِّي، وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِيَ الخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أرْضِنِي بِهِ قَالَ: وَيُسَمِّيْ حَاجَتَهُ . رواه البخاري .
জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে যাবতীয় কাজের জন্য ইস্তেখারা শিখাতেন। যেভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (আর) বলতেন, ’যখন তোমাদের কারো কোন বিশেষ কাজ করার ইচ্ছা হয়, তখন সে যেন ফরয সালাত ব্যতীত দু’ রাকআত নামায পড়ে এই দো’আ বলেঃ-’’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বইলমিকা অ আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা অ আসআলুকা মিন ফাযবলিকাল আযীম, ফাইন্নাকা তাক্বদিরু অলা আক্বদিরু অতা’লামু অলা আ’লামু অ আন্তা আল্লা-মুল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা(এখানে যে কাজের জন্য ইস্তেখারা করা হচ্ছে তা মনে মনে উল্লেখ করবে)খাইরুল লী ফী দ্বীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাক্বদুরহু লী, অয়্যাস্সিরহু লী, সুম্মা বা-রিক লী ফীহ। অইন কুন্তা তা’লামু আন্না হা-যাল আমরা শার্রুল লী ফী দ্বীনী অ মাআ’শী অ আ’-ক্বিবাতি আমরী অ আ’-জিলিহী অ আ-জিলিহ, ফাস্বরিফহু আন্নী অস্বরিফনী আনহু, অক্বদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কা-না সুম্মা আরযিবনী বিহ।’’অর্থ-হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট তোমার ইলমের সাথে মঙ্গল প্রার্থনা করছি। তোমার কুদরতের সাথে শক্তি প্রার্থনা করছি এবং তোমার বিরাট অনুগ্রহ থেকে ভিক্ষা যাচনা করছি। কেননা, তুমি শক্তি রাখ, আমি শক্তি রাখি না। তুমি জান, আমি জানি না এবং তুমি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। হে আল্লাহ! যদি তুমি এই(এখানে যে কাজের জন্য ইস্তেখারা করা হচ্ছে তা মনে মনে উল্লেখ করবে)কাজ আমার জন্য আমার দ্বীন, দুনিয়া, জীবন এবং কাজের বিলম্বিত ও অবিলম্বিত পরিণামে ভালো জান, তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারিত ও সহজ করে দাও। অতঃপর তাতে আমার জন্য বরকত দান কর। আর যদি তুমি এই কাজ আমার জন্য আমার দ্বীন, দুনিয়া, জীবন এবং কাজের বিলম্বিত ও অবিলম্বিত পরিণামে মন্দ জান, তাহলে তা আমার নিকট থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকে ওর নিকট থেকে সরিয়ে দাও। আর যেখানেই হোক মঙ্গল আমার জন্য বাস্তবায়িত কর, অতঃপর তাতে আমার মনকে পরিতুষ্ট করে দাও।তিনি বলেন, ’’সে এ সময়ে তার প্রয়োজনের বিষয়টি উল্লেখ করবে।’’ (অর্থাৎ দো’আ কালীন সময়ে ’আন্না হা-যাল আমরা’ এর জায়গায় প্রয়োজনীয় বিষয়টি উল্লেখ করবে।)[১]
সহীহুল বুখারী ১১৬৬, ৬৩৮২, ৭৩৯০, তিরমিযী ৪৮০, নাসায়ী ৩২৫৩, আবূ দাউদ ১৫৩৮, ইবনু মাজাহ ১৩৮৩, আহমাদ ১৪২৯৭
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১/৭২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের সব কাজের জন্য ইস্তেখারা শেখাতেন, যেমন গুরুত্ব দিয়ে কুরআনের সূরা শেখাতেন। এর মানে, কোনো বিশেষ কাজের ইচ্ছা হলে বান্দা নিজের সীমিত জ্ঞানের ওপর ভরসা না করে আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার কাছে সাহায্য চাইবে। হাদিসে বলা হয়েছে, ফরয সালাত ছাড়া দুই রাকআত নামাজ পড়ে দোয়া করতে হবে। দোয়ায় বান্দা স্বীকার করে যে আল্লাহ জানেন, বান্দা জানে না; আল্লাহ পারেন, বান্দা পারে না। কাজটি দ্বীন, জীবন ও পরিণামে ভালো হলে সহজ করার দোয়া করা হয়। আর মন্দ হলে তা দূরে সরানোর দোয়া করা হয়। ইস্তেখারার দোয়া আমাদের শেখায়, সিদ্ধান্তের আগে আল্লাহর কাছে সঠিক পথ চাওয়া মুমিনের ভরসার পরিচয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে দুই রাকআত নফল পড়ে ইস্তেখারা করা শেখানো হয়েছে।
- বান্দা নিজের অজানা ভবিষ্যৎ আল্লাহর জ্ঞানের ওপর ছেড়ে দেয়।
- যা কল্যাণকর, তা সহজ করা এবং যা ক্ষতিকর, তা দূরে রাখার দোয়া করা হয়।
