২/৯১. অধ্যায়ঃ
ওয়ায-নসীহত এবং তাতে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করার বিবরণ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ ﴾ [النحل: ١٢٥]অর্থাৎ “তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা।” (সূরা নাহল ১২৫ আয়াত)
নসীহতে ভারসাম্য: মানুষকে বিরক্ত না করে শিক্ষা দেওয়া
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৭০৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৭০৪
وَعَن أَبي وَائِلٍ شَقِيقِ بنِ سَلَمَةَ، قَالَ: كَانَ ابنُ مَسْعُودٍ رضي الله عنه يُذَكِّرُنَا في كُلِّ خَمِيسٍ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمانِ، لَوَدِدْتُ أنَّكَ ذَكَّرْتَنَا كُلَّ يَوْمٍ، فَقَالَ: أمَا إنَّهُ يَمْنَعُنِي مِنْ ذَلِكَ أنَّي أكْرَهُ أنْ أُمِلَّكُمْ، وَإنِّي أتَخَوَّلُكُمْ بِالْمَوْعِظَةِ، كَمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَتَخَوَّلُنَا بِهَا مَخَافَةَ السَّآمَةِ عَلَيْنَا . متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ ওয়ায়েল শাক্বীক্ব ইবনে সালামা হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ইবনে মাসঊদ (রাঃ) প্রত্যেক বৃহস্পতিবারে আমাদেরকে নসীহত শুনাতেন। একটি লোক তাঁকে নিবেদন করল, ’হে আবূ আব্দুর রহমান! আমার বাসনা এই যে, আপনি আমাদেরকে যদি প্রত্যেক দিন নসীহত শুনাতেন (তো ভাল হত)।’ তিনি বললেন, ’স্মরণে রাখবে, আমাকে এতে বাধা দিচ্ছে এই যে, আমি তোমাদেরকে বিরক্ত করতে অপছন্দ করি। আমি নসীহতের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি ঠিক ঐভাবে লক্ষ্য রাখছি, যেভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বিরক্ত হবার আশংকায় উক্ত বিষয়ে আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন।’ (অর্থাৎ মাঝে-মধ্যে বিশেষ প্রয়োজন মাফিক নসীহত শুনাতেন।) (বুখারী-মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ৬৮, ৭০, ৬৪১১, মুসলিম ২৮২১, তিরমিযী ২৮৫৫, আহমাদ ৩৫৭১, ৪০৩১, ৪০৫০, ৪১৭৭, ৪২১৬, ৪৩৯৫, ৪৪২৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৭০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নসীহতের পদ্ধতি এসেছে। তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার মানুষকে নসীহত করতেন। একজন ব্যক্তি চাইলো, তিনি যেন প্রতিদিন নসীহত করেন। তখন তিনি বললেন, তিনি মানুষকে বিরক্ত করতে চান না। তিনি নসীহতের সময় ঠিক সেইভাবে খেয়াল রাখেন, যেভাবে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের বিরক্ত হওয়ার আশঙ্কায় মাঝে-মধ্যে নসীহত করতেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ভালো কথা বলাও সময়, অবস্থা ও মানুষের গ্রহণক্ষমতা দেখে হওয়া উচিত। নসীহত বেশি হলেই সবসময় বেশি উপকার হবে—এমন বলা যায় না। বরং হৃদয়ে প্রভাব রাখার জন্য কথা বলার সময় বাছাই করা দরকার। এই হাদিস শিক্ষাদাতা, বক্তা ও অভিভাবকদের জন্য খুব সুন্দর দিকনির্দেশনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নসীহত করার সময় মানুষের ক্লান্তি ও বিরক্তির বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত।
- শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময় ও পরিমাণের ভারসাম্য জরুরি।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের অবস্থার প্রতি খেয়াল রেখে নসীহত করতেন।
