১/৬. অধ্যায়ঃ

আল্লাহভীতি ও সংযমশীলতা

মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ﴾ [ال عمران: ١٠٢]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর।” (সূরা আলে ইমরান ১০২ আয়াত)উক্ত আয়াতে যথার্থভাবে ভয় করার ব্যাখ্যা রয়েছে এই আয়াতে;তিনি বলেন,﴿ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ ﴾ [التغابن: ١٦]অর্থাৎ “তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর।” (সূরা তাগাবুন ১৬ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدٗا ٧٠ ﴾ [الاحزاب: ٧٠]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।” (সূরা আহযাব ৭০ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴿ وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ ﴾ [الطلاق: ٢، ٣]অর্থাৎ “আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তার নিস্কৃতির পথ করে দিবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে রুযী দান করবেন।” (সূরা ত্বালাক্ব ২-৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِن تَتَّقُواْ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّكُمۡ فُرۡقَانٗا وَيُكَفِّرۡ عَنكُمۡ سَيِّ‍َٔاتِكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡۗ وَٱللَّهُ ذُو ٱلۡفَضۡلِ ٱلۡعَظِيمِ ٢٩ ﴾ [الانفال: ٢٩]অর্থাৎ “যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তাহলে তিনি তোমাদেরকে ন্যায়-অন্যায় পার্থক্যকারী শক্তি দেবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতিশয় অনুগ্রহশীল।” (সূরা আনফাল ২৯ আয়াত)আল্লাহভীতি, সংযমশীলতা ও তাক্বওয়া-পরহেযগারীর গুরুত্ব সম্বন্ধে আরো অনেক আয়াত রয়েছে।

তাকওয়া ও মর্যাদা: মানুষের সম্মানের আসল মানদণ্ড

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৭০

وأما الأحاديث فالأول‏:‏ عن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قيل ‏:‏ يا رسول الله من أكرم الناس‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏أتقاهم‏"‏‏.‏ فقالوا‏:‏ ليس عن هذا نسألك، قال‏:‏ ‏"‏ فيوسف نبي الله بن نبي الله بن نبي الله بن خليل الله‏"‏ قالوا‏:‏ ليس عن هذا نسألك، قال‏:‏ ‏"‏فعن معادن العرب تسألوني‏؟‏ خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهواً ‏:‏ ‏(‏‏‏متفق عليه‏‏‏)‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য হাদীসসমূহ নিম্নরূপঃ-রাসূল (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হল যে, ’হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে?’ তিনি বললেন, ’’তাদের মধ্যে যে সবচেয়েআল্লাহ-ভীরু।’’ অতঃপর তাঁরা (সাহাবীরা) বললেন, ’এ ব্যাপারে আমরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি না।’ তিনি বললেন, ’’তাহলে ইউসুফ (সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি), যিনি স্বয়ং আল্লাহর নবী, তাঁর পিতা নবী, পিতামহও নবী এবং প্রপিতামহও নবী ও আল্লাহর বন্ধু।’’ তাঁরা বললেন, ’এটাও আমাদের প্রশ্ন নয়।’ তিনি বললেন, ’’তাহলে তোমরা কি আমাকে আরবের বংশাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ? (তবে শোনো!) তাদের মধ্যে যারা জাহেলী যুগে ভাল, তারা ইসলামেও ভাল; যদি দ্বীনী জ্ঞান রাখে।’’[১]

সহীহুল বুখারী ৩৩৫৩, ৩৩৭৪, ৩৩৮৩, ৩৪৯০, ৪৬৮৯, মুসলিম ২৩৭৮, আবূ দাউদ ৪৮৭২, আহমাদ ৭৪৪৪,৭৪৯০, ৮৮৩৬, মুওয়াত্তা মালেক ১৮৬৪

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৭০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত কে? তিনি প্রথমে বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু। এতে বোঝা যায়, ইসলামে সম্মানের মূল ভিত্তি তাকওয়া। পরে সাহাবীরা অন্য দিক জানতে চাইলে তিনি ইউসুফ (আঃ)-এর মর্যাদার কথা বলেন, যিনি নবী, নবীর পুত্র, নবীর পৌত্র এবং আল্লাহর বন্ধুর বংশধর। এরপর আরবের বংশ সম্পর্কে প্রশ্ন বুঝে তিনি বলেন, জাহেলী যুগে যারা ভালো ছিল, তারা ইসলামেও ভালো—যদি দ্বীনি জ্ঞান রাখে। তাই এই হাদিস বংশের গর্ব নয়; তাকওয়া, ভালো চরিত্র এবং দ্বীন বোঝার গুরুত্ব শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মানুষের প্রকৃত সম্মানের প্রধান মানদণ্ড তাকওয়া।
  • বংশ মর্যাদা থাকতে পারে, কিন্তু দ্বীনি জ্ঞান ও তাকওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • জাহেলী যুগের ভালো গুণ ইসলাম গ্রহণের পর আরও মূল্যবান হতে পারে।
  • প্রশ্নের উত্তরে নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষের ভুল ধারণা সংশোধন করেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন