২/৮৬. অধ্যায়ঃ
চুক্তি পূরণ, প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও অঙ্গীকার পালন করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَأَوۡفُواْ بِٱلۡعَهۡدِۖ إِنَّ ٱلۡعَهۡدَ كَانَ مَسُۡٔولٗا﴾ [الاسراء: ٣٤]অর্থাৎ “আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৪ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴿ وَأَوۡفُواْ بِعَهۡدِ ٱللَّهِ إِذَا عَٰهَدتُّمۡ ﴾ [النحل: ٩١]অর্থাৎ “তোমরা যখন পরস্পর অঙ্গীকার কর তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর।” (সূরা নাহল ৯১ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَوۡفُواْ بِٱلۡعُقُودِۚ ﴾ [المائدة: ١]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর।” (সূরা মাইদাহ ১ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفۡعَلُونَ ٢ كَبُرَ مَقۡتًا عِندَ ٱللَّهِ أَن تَقُولُواْ مَا لَا تَفۡعَلُونَ ٣ ﴾ [الصف: ٢، ٣]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যা কর না, তা তোমরা বল কেন? তোমরা যা কর না তোমাদের তা বলা আল্লাহর নিকট অতিশয় অসন্তোষজনক।” (সূরা স্বাফফ ২-৩ আয়াত)
মুনাফিকীর চার স্বভাব: আমানত, সত্য ও আচরণের সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ২/৬৯৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/৬৯৫
وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: أرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقاً خَالِصاً، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا: إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ، وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ . متفقٌ عَلَيْهِ
‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ’’যার মধ্যে চারটি স্বভাব পাওয়া যাবে, সে খাঁটি মুনাফেক হয়ে যাবে। আর যার মধ্যে এগুলোর একটি স্বভাব থাকবে, তার মধ্যে মুনাফেকীর একটি স্বভাব থেকে যাবে; যতক্ষণ না সে তা বর্জন করবে। (১) তাকে আমানত দেওয়া হলে সে খিয়ানত করবে। (২) কথা বললে মিথ্যা বলবে। (৩) ওয়াদা করলে খেলাপ করবে। এবং (৪) ঝগড়া করলে গালি-গালাজ করবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৩৪, ২৪৫৯, ৩১৪৯, ৬০৯৫, মুসলিম ৫৮, তিরমিযী ২৬৩২, নাসায়ী ৫০২০, আবূ দাউদ ৪৬৮৮, আহমাদ ৬৭২৯, ৬৮২৫-৬৮৪০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/৬৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) চারটি স্বভাবের কথা বলেছেন। যার মধ্যে চারটি স্বভাব একসঙ্গে থাকে, সে খাঁটি মুনাফিক হয়ে যায়। আর যার মধ্যে একটি স্বভাব থাকে, তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব থাকে, যতক্ষণ না সে তা ছেড়ে দেয়। এই চারটি হলো: আমানত দিলে খিয়ানত করা, কথা বললে মিথ্যা বলা, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করা এবং ঝগড়া করলে গালি-গালাজ বা সীমালঙ্ঘন করা। হাদিসটি আমাদের আত্মপরীক্ষার শিক্ষা দেয়। শুধু অন্যকে মুনাফিক বলা নয়; বরং নিজের চরিত্রের ভুলগুলো ঠিক করা জরুরি। কথায় সত্য, প্রতিশ্রুতিতে স্থিরতা, আমানতে সততা এবং ঝগড়ায় সংযম—এসবই মুসলিম চরিত্রের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমানতে খিয়ানত মুনাফিকীর স্বভাব।
- মিথ্যা বলা ও ওয়াদা ভঙ্গ করা থেকে বাঁচতে হয়।
- ঝগড়ার সময় সীমা রক্ষা করা জরুরি।
- খারাপ স্বভাব থাকলে তা ত্যাগের চেষ্টা করতে হয়।
