১/৮০. অধ্যায়ঃ
বৈধ কাজে শাসকবৃন্দের আনুগত্য করা ওয়াজিব এবং অবৈধ কাজে তাদের আনুগত্য করা হারাম
মহান আল্লাহ বলেন,﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ وَأُوْلِي ٱلۡأَمۡرِ مِنكُمۡۖ فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ وَأَحۡسَنُ تَأۡوِيلًا ٥٩ ﴾ [النساء: ٥٩]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রাসূলের অনুগত হও ও তোমাদের নেতৃবর্গের।” (সূরা নিসা ৫৯ আয়াত)
অসৎ শাসকের সময় কী করণীয়: নিজের দায়িত্ব পালন করার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৭/৬৭৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/৬৭৪
وَعَن أَبي هُنَيْدَةَ وَائِلِ بنِ حُجْرٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَألَ سَلَمَةُ بن يَزيدَ الجُعفِيُّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا نَبِيَّ الله، أَرَأَيتَ إنْ قامَت عَلَيْنَا أُمَرَاءُ يَسألُونَا حَقَّهُم، وَيمْنَعُونَا حَقَّنَا، فَمَا تَأْمُرُنَا ؟ فَأعْرَضَ عَنهُ، ثُمَّ سَألَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «اسْمَعْوا وَأَطِيعُوا، فإنَّمَا عَلَيْهِمْ مَا حُمِّلُوا، وَعَلَيْكُمْ مَا حُمِّلْتُمْ ». رواه مسلم
আবূ হুনাইদা ওয়াইল ইবনে হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুনাইদা ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ) বলেন, সালামাহ ইবনে য়্যাযীদ জু’ফী আল্লাহর রাসূল (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলেন, ’হে আল্লাহর নবী! আপনি বলুন, যদি আমাদের উপর (অসৎ) শাসক নিযুক্ত হয় এবং আমাদের কাছে তাদের অধিকার চায় ও আমাদেরকে আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখে। অতএব এ ব্যাপারে আপনি কী নির্দেশ দেন?’তিনি তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পুনরায় তিনি জিজ্ঞাসা করলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, ’’তোমরা (তাদের) কথা শুনো এবং (তাদের) আনুগত্য করো। কারণ তাদের দায়িত্বে তা রয়েছে, যা তাদের উপর চাপানো হয়েছে (অর্থাৎ সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতা) এবং তোমাদের দায়িত্বে তা রয়েছে, যা তোমাদের উপর অর্পণ করা হয়েছে (অর্থাৎ নেতা ও শাসকের আনুগত্য)।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ১৮৪৬, তিরমিযী ২১৯৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৬৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালামাহ ইবনে য়্যাযীদ জু’ফী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে একটি কঠিন প্রশ্ন করেন। যদি এমন শাসক আসে, যারা নিজেদের অধিকার চায় কিন্তু জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তখন কী করা হবে? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উত্তর দেন, তোমরা তাদের কথা শুনো এবং আনুগত্য করো। কারণ তাদের ওপর যে দায়িত্ব চাপানো হয়েছে, তা তাদের দায়িত্ব; আর তোমাদের ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা তোমাদের দায়িত্ব। এখানে হাদিসটি দায়িত্বের ভারসাম্য শেখায়। শাসক যদি অন্যায় করে, তার জবাবদিহি তার ওপর। আর প্রজার দায়িত্ব হলো নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা। এই হাদিস আবেগের বদলে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ধারণা সামনে আনে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাসকের দায়িত্ব এবং প্রজার দায়িত্ব আলাদা করে বোঝানো হয়েছে।
- নিজের অধিকার না পেলেও নিজের কর্তব্য পালনের শিক্ষা এসেছে।
- অন্যায়ের জবাবদিহি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর থাকবে।
- কঠিন অবস্থায়ও শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের নির্দেশ পাওয়া যায়।
