১/৭৮. অধ্যায়ঃ
প্রজাদের সাথে শাসকদের কোমল ব্যবহার করা, তাদের মঙ্গল কামনা করা, তাদের প্রতি স্নেহপরবশ হওয়ার আদেশ এবং প্রজাদেরকে ধোঁকা দেওয়া, তাদের প্রতি কঠোর হওয়া, তাদের সবার্থ উপেক্ষা করা, তাদের ও তাদের প্রয়োজন সম্বন্ধে উদাসীন হওয়া নিষিদ্ধ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴾ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি তুমি সদয় হও।” (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ وَإِيتَآيِٕ ذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَيَنۡهَىٰ عَنِ ٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِ وَٱلۡبَغۡيِۚ يَعِظُكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ ٩٠ ﴾ [النحل: ٩٠]অর্থাৎ “নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎকার্য ও সীমালংঘন করা হতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন; যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।” (সূরা নাহ্ল ৯০ আয়াত)
জনগণের প্রয়োজন শুনতে না চাওয়া শাসক সম্পর্কে হাদিস
রিয়াদুস সলেহিন : ৬/৬৬৩
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৬/৬৬৩
وَعَن أَبي مَريَمَ الأَزدِيِّ رضي الله عنه: أنّه قَالَ لِمُعَاوِيَةَ رضي الله عنه: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: مَنْ وَلاَّهُ اللهُ شَيْئاً مِنْ أُمُورِ المُسْلِمِينَ، فَاحْتَجَبَ دُونَ حَاجَتِهِمْ وَخَلَّتِهِمْ وَفَقْرِهِمْ، احْتَجَبَ اللهُ دُونَ حَاجَتِهِ وَخَلَّتِهِ وَفَقْرِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ . فَجَعَلَ مُعَاوِيَةُ رَجُلاً عَلَى حَوَائِجِ النَّاسِ . رواه أَبُو داود والترمذي
আবূ মারয়্যাম আযদী রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু মু‘আবিয়াহ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিতঃ
আবূ মারয়্যাম আযদী (রাঃ) মু’আবিয়াহ (রাঃ)-কে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, ’’যে ব্যক্তিকে আল্লাহ মুসলিমদের কোনো (রাজ) কার্যে নিযুক্ত করলেন, অতঃপর সে তাদের অভাব-অভিযোগ, প্রয়োজন ও অনটন থেকে পর্দা বা বাধা সৃষ্টি করলো, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সে ব্যক্তির অভাব-অভিযোগ, প্রয়োজন ও অনটন থেকে পর্দা বা বাধা প্রদান করবেন।’’ (তা পূরণ করবেন না।) (আবূ দাউদ, তিরমিযী) [১]
তিরমিযী ১৩৩২, আহমাদ ১৭৫৭২, আবূ দাউদ ২৯৪৮
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৬/৬৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ মারয়্যাম আযদী (রাঃ) মু’আবিয়াহ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবাণী শুনিয়েছেন। যে ব্যক্তিকে আল্লাহ মুসলিমদের কোনো কাজে দায়িত্ব দেন, তারপর সে মানুষের প্রয়োজন, অভাব, অভিযোগ ও অনটন থেকে নিজেকে আড়াল করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রয়োজন ও অভাব থেকে আড়াল করবেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো দায়িত্বশীল ব্যক্তির সহজলভ্যতা। নেতৃত্ব শুধু পদ বা মর্যাদা নয়; মানুষের কথা শোনা, তাদের কষ্ট বোঝা এবং প্রয়োজনের দিকে মন দেওয়া এর অংশ। হাদিসের শেষে দেখা যায়, মু’আবিয়াহ (রাঃ) মানুষের প্রয়োজন দেখার জন্য একজন লোক নিয়োগ করেন। তাই এই হাদিস দায়িত্ব, জনসেবা, শাসকের জবাবদিহি এবং মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার গুরুত্ব শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিমদের প্রয়োজন থেকে নিজেকে আড়াল করা দায়িত্বশীলের জন্য ভয়াবহ সতর্কতা।
- নেতৃত্বের অংশ হলো মানুষের অভাব, অভিযোগ ও দরকারের দিকে নজর দেওয়া।
- কিয়ামতের দিন দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির বিষয় হাদিসে এসেছে।
- মানুষের কাজ সহজ করতে ব্যবস্থা নেওয়া ভালো নেতৃত্বের পরিচয়।
