১/৭৮. অধ্যায়ঃ
প্রজাদের সাথে শাসকদের কোমল ব্যবহার করা, তাদের মঙ্গল কামনা করা, তাদের প্রতি স্নেহপরবশ হওয়ার আদেশ এবং প্রজাদেরকে ধোঁকা দেওয়া, তাদের প্রতি কঠোর হওয়া, তাদের সবার্থ উপেক্ষা করা, তাদের ও তাদের প্রয়োজন সম্বন্ধে উদাসীন হওয়া নিষিদ্ধ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴾ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি তুমি সদয় হও।” (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ وَإِيتَآيِٕ ذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَيَنۡهَىٰ عَنِ ٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِ وَٱلۡبَغۡيِۚ يَعِظُكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ ٩٠ ﴾ [النحل: ٩٠]অর্থাৎ “নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎকার্য ও সীমালংঘন করা হতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন; যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।” (সূরা নাহ্ল ৯০ আয়াত)
বায়আতের দায়িত্ব ও শাসকের অধিকার: হাদিসের সহজ শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৬৬১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৬৬১
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « كَانَتْ بَنُو إسرَائِيلَ تَسُوسُهُم الأَنبِيَاء، كُلَّمَا هَلَكَ نَبِيٌّ خَلَفَهُ نَبيٌّ، وَإنَّهُ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي، وَسَيكُونُ بَعْدِي خُلفَاءُ فَيَكثُرُونَ»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَا تَأْمُرُنَا ؟ قَالَ: « أَوْفُوا بِبَيْعَةِ الأَوَّلِ فَالأَوَّلِ، ثُمَّ أَعْطُوهُمْ حَقَّهُمْ، وَاسْأَلُوا اللهَ الَّذِي لَكُمْ، فَإنَّ اللهَ سَائِلُهُمْ عَمَّا اسْتَرْعَاهُمْ ». متفقٌ عليه
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’বানী ইস্রাঈলদের (দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের কাজ) পরিচালনা করতেন নবীগণ। যখনই কোন নবী মারা যেতেন, তখনই অন্য আর এক নবী তাঁর প্রতিনিধি হতেন। (জেনে রাখ) আমার পর কোন নবী নেই, বরং আমার পর অধিক সংখ্যায় খলীফা হবে।’’ সাহাবীগণ বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন?’ তিনি বললেন, ’’যার নিকট প্রথমে বায়’আত করবে, তা পালন করবে। তারপর যার নিকট বায়’আত করবে, তা পালন করবে। অতঃপর তাদের অধিকার আদায় করবে এবং তোমাদের অধিকার আল্লাহর কাছে চেয়ে নেবে। কারণ, মহান আল্লাহ তাদেরকে প্রজাপালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৩৪৫৫, মুসলিম ১৮৪২, ইবনু মাজাহ ২৮৭১, আহমাদ ৭৯০০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৬৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উম্মতকে একটি বড় সত্য জানালেন—তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না, বরং অনেক খলীফা হবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো বায়আত, নেতৃত্ব ও দায়িত্বের শৃঙ্খলা। সাহাবীগণ যখন করণীয় জানতে চাইলেন, তিনি বললেন, প্রথমে যার কাছে বায়আত করা হবে, তার বায়আত পূরণ করতে হবে। তারপর পরবর্তী বায়আতের ক্ষেত্রেও একই নীতি থাকবে। এর সঙ্গে তিনি আরও শেখালেন, শাসকদের অধিকার আদায় করতে হবে এবং নিজের অধিকার আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। কারণ শাসকদেরও তাদের প্রজাপালনের দায়িত্ব সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। তাই এই হাদিস নেতৃত্বের আনুগত্য, খিলাফত, বায়আত পালন এবং দায়িত্বশীল শাসনের কথা একসঙ্গে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পর আর কোনো নবী আসবেন না—এটি হাদিসের স্পষ্ট বক্তব্য।
- বায়আত করলে তা রক্ষা করা মুসলিমের দায়িত্ব।
- শাসকের অধিকার আদায় করা এবং নিজের অধিকার আল্লাহর কাছে চাওয়া শেখানো হয়েছে।
- শাসকদেরও তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।
