১/৭৮. অধ্যায়ঃ
প্রজাদের সাথে শাসকদের কোমল ব্যবহার করা, তাদের মঙ্গল কামনা করা, তাদের প্রতি স্নেহপরবশ হওয়ার আদেশ এবং প্রজাদেরকে ধোঁকা দেওয়া, তাদের প্রতি কঠোর হওয়া, তাদের সবার্থ উপেক্ষা করা, তাদের ও তাদের প্রয়োজন সম্বন্ধে উদাসীন হওয়া নিষিদ্ধ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴾ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “তোমার অনুসারী বিশ্বাসীদের প্রতি তুমি সদয় হও।” (সূরা শুআরা ২১৫ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ وَإِيتَآيِٕ ذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَيَنۡهَىٰ عَنِ ٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِ وَٱلۡبَغۡيِۚ يَعِظُكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ ٩٠ ﴾ [النحل: ٩٠]অর্থাৎ “নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎকার্য ও সীমালংঘন করা হতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন; যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।” (সূরা নাহ্ল ৯০ আয়াত)
দায়িত্বে নম্রতা: মানুষের সাথে সহজ আচরণের দোয়া
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৬৬০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৬৬০
وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ فِي بَيْتِي هَذَا: «اَللهم مَنْ وَلِيَ مِنْ أمْرِ أُمَّتِي شَيْئاً فَشَقَّ عَلَيْهِمْ، فَاشْقُقْ عَلَيْهِ، وَمَنْ وَلِيَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِي شَيْئاً فَرَفَقَ بِهِمْ، فَارفُقْ بِهِ». رواه مسلم
আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিতঃ
আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আমার এই ঘরে বলতে শুনেছি, ’’হে আল্লাহ! যে কেউ আমার উম্মতের কোন কাজের কিছু দায়িত্ব নিয়ে তাদেরকে কষ্টে ফেলবে, তুমি তাকে কষ্টে ফেলো। আর যে কেউ আমার উম্মতের কোন কাজের কিছু দায়িত্ব নিয়ে তাদের সাথে নম্রতা করবে, তুমি তার সাথে নম্রতা করো।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ১৮২৮, আহমাদ ২৩৮১৬, ২৪১০১, ২৫৬৬৭, ২৫৬৮০, ২৫৭০৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৬৬০-এর সারসংক্ষেপ
আয়েশা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে তাঁর ঘরে বলতে শুনেছেন, হে আল্লাহ! যে কেউ আমার উম্মতের কোনো কাজের কিছু দায়িত্ব নিয়ে তাদেরকে কষ্টে ফেলবে, তুমি তাকে কষ্টে ফেলো। আর যে কেউ আমার উম্মতের কোনো কাজের দায়িত্ব নিয়ে তাদের সাথে নম্রতা করবে, তুমি তার সাথে নম্রতা করো। এই হাদিস দায়িত্বে থাকা মানুষের জন্য বড় সতর্কতা। দায়িত্ব ছোট হোক বা বড়—মানুষকে অকারণে কষ্ট দেওয়া, কাজ কঠিন করে দেওয়া বা রূঢ় আচরণ করা ভয়ংকর বিষয়। আবার দায়িত্বে থেকেও নম্র হওয়া, মানুষের কাজ সহজ করা এবং দয়া দেখানো আল্লাহর নম্রতা পাওয়ার কারণ হতে পারে। এই হাদিস বিশেষ করে নেতা, শিক্ষক, প্রশাসক, অভিভাবক এবং যে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দায়িত্বে থাকলে মানুষের কষ্ট কমানোর চেষ্টা করা উচিত।
- অকারণে কঠোরতা দায়িত্বশীলের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।
- নম্র আচরণ আল্লাহর নম্রতা পাওয়ার কারণ হতে পারে।
- ছোট দায়িত্বও মানুষের অধিকার ও কষ্টের সাথে জড়িত।
